বাংলাদেশ রেলওয়ে

ভাড়া বাড়ছে দেশের প্রথম বিরতিহীন ট্রেন সুবর্ণ এক্সপ্রেসের

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে দুটি বিরতিহীন ট্রেন চললেও সর্বশেষ চালু হওয়া সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের ভাড়া সুবর্ণ এক্সপ্রেসের চেয়ে বেশি। যাত্রা পথের দূরত্ব ও সময় একই হলেও দুটি ট্রেনের ভিন্ন ভিন্ন ভাড়ার কারণে যাত্রী অসন্তোষ ছাড়াও রেলওয়ে বাড়তি রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। যার কারণে কর্তৃপক্ষ উভয় ট্রেনের ভাড়া সমন্বয় করতে সুবর্ণ এক্সপ্রেসের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে

বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রথম বিরতিহীন সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া বাড়ছে। অন্য আন্তঃনগর ট্রেনের ভাড়া না বাড়লেও রেলের একই সুবিধাসম্বলিত সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে সমন্বয় করতে ভাড়া বাড়াচ্ছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। আগামী ২৫ জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেন সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেস। দেশের প্রধান দুই নগরী ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে যোগাযোগের জন্য সার্ভিস দুটির টিকিট চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। রেলওয়ের ওয়ার্কিং টাইম টেবিল অনুযায়ী ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাতায়াতে লাগে মাত্র ৫ ঘণ্টা ১৫ মিনিট। যার কারণে অন্য আন্তঃনগর ট্রেনগুলো অনেক সময় আসন ফাঁকা রেখে চলাচল করলেও এই দুটি ট্রেনের টিকিটের জন্য যাত্রীদের ভিড় থাকে বেশি। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছাড়ার পাশাপাশি কোন ধরনের সময়ক্ষেপন না করেই গন্তব্যে পৌঁছার সুনামও রয়েছে।

১৯৯৮ সালের ১৪ এপ্রিল রেলের ইতিহাসে প্রথম বিরতিহীন ট্রেন হিসাবে সুবর্ণ এক্সপ্রেসের (৭০১/৭০২) সার্ভিস চালু করা হয়। ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে একটি মাত্র বিরতি দিয়ে ট্রেনটি ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সরাসরি চলাচল করে। ট্রেনটির বেইজ স্টেশন রাখা হয়েছে চট্টগ্রামে।

শুরুতে একই রুটে দেশের প্রথম আন্তঃনগর ট্রেন মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের নাম্বার ছিল ৭০১ ও ৭০২। সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর পর ৭০১ ও ৭০২ নম্বর পরিবর্তন করে মহানগর এক্সপ্রেসকে ৭২১ ও ৭২২ নাম্বারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অপর দিকে ২০১৬ সালের ২৫ জুন সুবর্ণ এক্সপ্রেসের মতো ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে দ্বিতীয় বিরতিহীন ট্রেন সোনার বাংলা এক্সপ্রেস (৭৮৭ ও ৭৮৮) উদ্বোধন করে রেলওয়ে। এই ট্রেনটিও বিমান যাত্রীদের সুবিধার্থে বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে। এ রুটের বাইরে একটি মাত্র বিরতিহীন ট্রেন চালু হয়েছে। ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল ঢাকা থেকে চাপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত চালু হয় বনলতা এক্সপ্রেস (৭৯১ ও ৭৯২) ।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে দুটি বিরতিহীন ট্রেন চললেও সর্বশেষ চালু হওয়া সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের ভাড়া সুবর্ণ এক্সপ্রেসের চেয়ে বেশি। যাত্রা পথের দূরত্ব ও সময় একই হলেও দুটি ট্রেনের ভিন্ন ভিন্ন ভাড়ার কারণে যাত্রী অসন্তোষ ছাড়াও রেলওয়ে বাড়তি রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। যার কারণে কর্তৃপক্ষ উভয় ট্রেনের ভাড়া সমন্বয় করতে সুবর্ণ এক্সপ্রেসের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বর্তমানে সূবর্ণ এক্সপ্রেসের শোভন চেয়ার শ্রেণীর ভাড়া যাত্রীপ্রতি (প্রাপ্ত বয়স্ক) ৩৮০ টাকা। তাপানুকূল অর্থাৎ এসি চেয়ারের (স্নিগ্ধা) ৬৩০ টাকা। অপর দিকে সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের শোভন চেয়ারশ্রেণীতে ভাড়া দিতে হয় ৪০৫ টাকা, স্নিগ্ধা শ্রেণীর ভাড়া ৭০০ টাকা। শোভন চেয়ার ছাড়া প্রথম শ্রেণৗ ও তাপানুকূল শ্রেণীতে ভ্রমণ করতে যাত্রীদের টিকিটের মূল ভাড়ার সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধ করতে হয়। এক্ষেত্রে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনে শোভন চেয়ার ও স্নিগ্ধা শ্রেণী ছাড়া অন্য কোনো আসন না থাকায় শুধুমাত্র দুটি শ্রেণীতেই সোনার বাংলা ট্রেনের সঙ্গে ভাড়া সমন্বয় করতে হচ্ছে রেলওয়েকে। 

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি রেলওয়ের ট্রাফিক কমার্শিয়াল বিভাগের উপ-পরিচালক (টিসি) মো. আনসার আলী রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তাকে (সিসিএস) বিরতিহীন সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া সমন্বয় করতে চিঠি দেয়। চিঠিতে আগামী ২৫ জানুয়ারি থেকে সুবর্ণ এক্সপ্রেসের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি কার্যকর করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে বলা হয়েছে। এর আগে গত ৩ জানুয়ারি ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়টি অনুমোদন দেয় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আলমগীর হুছাইন।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এর মধ্যে রেলের টিকিট ইস্যুকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান সহজ লিমিটেডকে সফটওয়্যারের প্রয়োজনীয় সংশোধনীর জন্য নির্দেশনা দেয় পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্যিক বিভাগ।

রেলওয়ের পরিবহন বিভাগের তথ্যে জানা গেছে, সাপ্তাহিক বন্ধ ছাড়া সুবর্ণ এক্সপ্রেস প্রতিদিন সকাল ৭টায় চট্টগ্রাম থেকে ও প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় টাকা থেকে চলাচল করে। অপর দিকে সাপ্তাহিক বন্ধ ছাড়া সোনার বাংলা এক্সপ্রেস প্রতিদিন ৭টায় ঢাকা থেকে এবং প্রতিদিন বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাত্রী পরিবহন করে। রাষ্ট্রীয় সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এই দুটি ট্রেনের টিকিটের চাহিদা বেশি থাকায় বর্তমানে সপ্তাহের মধ্যবর্তী সময়ে ট্রেন দুটির সাপ্তাহিক বন্ধ রেখেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, সুবর্ণ ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের ক্যাটাগরি একই হলেও এতদিন ভিন্ন ভিন্ন ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন হচ্ছিল। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় দুটি ট্রেনের ভাড়া সমন্বয় করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি দূর হওয়া ছাড়াও রেলের রাজস্ব আয় আগের চেয়েও বাড়বে বলে মনে করছেন তিনি।

আরও