চট্টগ্রামে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে পৃথক অভিযানে মোট প্রায় ৩৩ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে সীতাকুণ্ডে একটি ‘কালো তেলের’ ডিপো থেকে ২৫ হাজার লিটার এবং নগরের বন্দর এলাকায় একটি বন্ধ ফিলিং স্টেশন থেকে ৮ হাজার লিটারের বেশি ডিজেল ও অকটেন উদ্ধার করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সোমবার বিকালে সীতাকুণ্ডের সলিমপুর সিডিএ আবাসিক এলাকায় রেললাইনের পাশে টিনঘেরা একটি ডিপোতে অভিযান চালানো হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে ট্যাংক লরি ও শতাধিক ড্রামে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়। প্রাথমিকভাবে এসব তেল ডিজেল বলে ধারণা করা হলেও এর মান পরীক্ষা করবে বিএসটিআই।
অভিযানস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বড় একটি অবৈধ মজুতের সন্ধান পাওয়া গেছে। জব্দ তেল আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
একই দিনে নগরের বন্দর এলাকায় আনোয়ারা জাকারিয়া ফিলিং স্টেশনেও অভিযান চালায় প্রশাসন। বাইরে থেকে তেল না থাকার অজুহাতে স্টেশনটি বন্ধ রাখা হলেও ভেতরে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি মজুত পাওয়া যায়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আমিরুল মোস্তফা জানান, স্টেশনটিতে ৭ হাজার ৭৩৪ লিটার ডিজেল ও ৩৭৪ লিটার অকটেন মজুত ছিল। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও পরিমাপে কারচুপির দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, দেশে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও অসাধু চক্র অতিরিক্ত মুনাফার আশায় অবৈধ মজুত করছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। জ্বালানি খাতে বিভিন্ন অনিয়মে ৯৮টি মামলা দায়ের ও জরিমানা আদায় করা হয়েছে।