বিএনপি মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী এখন খুব কথা বলছে। তাদের জিজ্ঞেস করুন, মুক্তিযুদ্ধে তাদের কী ভূমিকা ছিল। তারা ‘৭১ সালে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল। আমাদেরকে পালিয়ে যেতে হয়েছিল। আমরা ২৪ কে ভুলব না, ৭১ কেও ভুলব না। আমরা যুদ্ধ করে স্বাধীনতা পেয়েছি। যুদ্ধ করেছি একটা স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর আসনের ফাড়াবাড়ি স্কুল মাঠে নির্বাচনী গণসংযোগে এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সরকার নিরপেক্ষ সরকার। ভোটের মাধ্যমে যারা নির্বাচিত হবে তারা সরকার গঠন করবে। এবার সুন্দর নির্বাচন হবে। মন যাকে চাইবে তাকেই ভোট দেবেন। জেলার বড় বড় সড়ক, কলেজ-মাদ্রাসার উন্নয়ন, ভুট্টা চাষ, বরেন্দ্র টিউবওয়েল আমরা করেছি। জামায়াত প্রার্থীকে না জেনে কথা না বলার আহ্বান জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপন করতে চাই। যুবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে বিদেশে পাঠাতে চাই; যাতে তারা স্বাবলম্বী হয়ে আয় করতে পারে। দক্ষিণাঞ্চলে প্রত্যেক ঘরে ঘরে একজন করে বিদেশে থাকে। বাইরে গেলে এলাকার উন্নয়ন হবে। তথ্য প্রযুক্তির প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে চাই। কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে চাই। বিমানবন্দর চালুর আগে আয় বাড়ানোকে গুরুত্ব দেব। বিশ্ববিদ্যালয়-মেডিকেল কলেজ, প্রকৌশলী কলেজ করতে চাই। সবাই এক হলে কাজগুলো করা সম্ভব হবে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের ভয় কাজ করে। ভয় করবেন না। আপনি এ দেশের নাগরিক, আমিও এদেশের নাগরিক। আপনাদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। কেউ আপনাদের ক্ষতি করবে না। আপনাদের সুরক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, আমাদের সবার। এটা আপনাদের দেশ, আপনাদের মাটি। এটা আপনার জমি আপনার দেশ।
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আমি আপনাদের পুরনো মানুষ। পরীক্ষীত মানুষ। এটা আমার শেষ নির্বাচন। এবারে ধানের শীষে ভোট দিয়ে কাজ করার সুযোগ দেবেন। ভোট আপনাদের আমানত, এটা খেয়ানত করব না। আমরা বাপ-দাদার জমি বিক্রি করে রাজনীতি করি। সততার সঙ্গে কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও করব।