পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলে বেড়েছে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা। তবে বাড়েনি যাত্রীসেবার মান। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলায় স্থায়ী বাস টার্মিনাল ও যাত্রী ছাউনি না থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছে যাত্রীরা। আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে বাস পার্কিং করায় প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। শরণখোলায় দ্রুত বাসস্ট্যান্ড নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন বাস মালিক সমিতির নেতারা।
সরজমিনে দেখা যায়, শরণখোলা উপজেলা সদরের রায়েন্দা এলাকায় সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী অসংখ্য বাস। সড়কে বাস পার্কিং করে রাখায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পথচারী, ট্রাক ও বিভিন্ন ছোট-বড় যানবাহন চালকদের। প্রায়ই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।
শরণখোলা উপজেলা সদরের রায়েন্দা এলাকা থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, বগুড়া, খুলনা, বেনাপোলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন ৫০টির বেশি দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়। এছাড়া জেলার অভ্যন্তরীণ রুটে অসংখ্য যাত্রীবাহী বাস, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল চলাচল করে। উপজেলা সদরে স্থায়ী বাস টার্মিনাল ও যাত্রী ছাউনি না থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এছাড়া রায়েন্দা বাসস্ট্যান্ডের পাশে আনোয়ার হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদি বলে, ‘স্যাররা যখন পড়ান তখন বাসের হর্নের শব্দে কোনো কিছুই শুনতে পাই না। এতে আমাদের মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে।’
উম্মে সালমা সুলতানা বলে, ‘পার্কিং করা বাস থেকে যাত্রীদের ফেলা থুথু গায়ে পড়ে। আমরা এখান থেকে অন্যত্র বাসস্ট্যান্ড সরিয়ে নেয়ার দাবি জানাই।’
বাসস্ট্যান্ডে দুর্ঘটনার শিকার স্থানীয় সাংবাদিক ও ইউটিউবার মো. শাহিন হাওলাদার বলেন, ‘সম্প্রতি বাসস্ট্যান্ড থেকে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় দুই পাশে পার্কিং করা বাসের বক্সের ঢাকনা ওঠানোর সময় চোখের পাশে আঘাত লাগে। আমি এখন ঝাপসা দেখি। আমার মতো অনেকে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। অনেক সময় যানজটে আটকা পড়ে যানবাহনসহ পথচারীরা। দ্রুত স্থায়ী একটি বাস টার্মিনাল নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’
শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন খান জাকির বলেন, ‘দুর্ঘটনা এড়াতে ও সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি যাত্রী ভোগান্তি কমাতে বাস টার্মিনালের জন্য জমি বরাদ্দের দাবি জানাই।’
মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা-মোংলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. শামীম হাসান পলাশ বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস চলাচল বেড়েছে । তবে যাত্রীদের জন্য নেই কোনো ছাউনি ও বাস টার্মিনাল। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হয়। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় স্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি। দূরপাল্লার বাসের সংখ্যা বাড়ায় বাস টার্মিনাল ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণ জরুরি।’
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুর ই আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘স্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য জমি নির্বাচনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সুন্দরবনঘেঁষা মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা থেকে জেলা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দৈনিক ১০ হাজারের বেশি মানুষ যাতায়াত করে।’