ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর সীমান্তে ভারত থেকে পুশইনের আশঙ্কায় টহল জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই আশঙ্কায় স্থানীয় মসজিদ থেকে মাইকিংয়ের পর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাসিন্দারাও।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের নলগড়িয়া ও নোয়াবাদী সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, রাতে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা বিমানবন্দরের পাশের গেটের কাছে প্রায় ১৫০ জন ভারতীয় নাগরিক জড়ো হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি জানার পর সীমান্তে স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণ বেশি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয় বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। রাতভর সীমান্তে জোরদার করা হয় টহল।
আনিস মিয়া, ফজলুল হকসহ স্থানীয়রা জানান, বিজিবির টহল তৎপরতা বেড়ে গেলে সীমান্ত এলাকার গ্রামবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় কয়েকটি মসজিদ থেকে মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে রাত ৩টা ৩৩ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ। তিনি বিজয়নগর উপজেলার সিংগারবিল ইউনিয়নবাসীকে 'যাদের যা কিছু আছে তা নিয়ে ভারতীয় সীমান্তে চলে আসা'র আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিজিবিকে সহায়তা করার অনুরোধ করেন।
২৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ বলেন, বর্তমানে দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে আমরা সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভারতীয় নাগরিকদের পুশইনের আশঙ্কায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ওই এলাকায় টহল জোরদার করা হয়। এখন পর্যন্ত কোনো অনুপ্রবেশ ঘটেনি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
গত ৪ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত বাংলাদেশের পাঁচ জেলার সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে ৩১৮ জনকে ঠেলে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৪ মে মেহেরপুর সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে, ৭ মে খাগড়াছড়ি ও সাতক্ষীরা দিয়ে যথাক্রমে ৬৬ ও ৭৮, মৌলভীবাজার সীমান্ত দিয়ে (৭, ৮, ১৪ ও ১৫ মে) ১৪৮ এবং ১৪ মে সিলেট সীমান্ত দিয়ে ১৬ জনকে ঠেলে পাঠানো হয়।
- বাসস