শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

বেনাপোল ও হিলি সীমান্তে দুই দেশের সম্প্রীতির আয়োজন

ভাষার টান আর মনের আবেগে কভিড-১৯ মহামারীকে উপেক্ষিত করে স্বল্প পরিসরে হলেও প্রতি বছরের ন্যায় এবারো বেনাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হলো দুই বাংলার ভাষাপ্রেমীদের মিলনমেলা।

ভাষার টান আর মনের আবেগে কভিড-১৯ মহামারীকে উপেক্ষিত করে স্বল্প পরিসরে হলেও প্রতি বছরের ন্যায় এবারো বেনাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হলো দুই বাংলার ভাষাপ্রেমীদের মিলনমেলা। গতকালের শহীদ দিবস আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একুশে মঞ্চে বসে দুই বাংলার মিলনমেলা।

সীমান্তের জিরো পয়েন্টে দুই বাংলার ভাষাপ্রেমী মানুষের মিলনমেলা উপলক্ষে যৌথভাবে নির্মাণ করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একুশে মঞ্চ। এবারের মিলনমেলার আয়োজন করেছে দুই বাংলার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন পরিষদ। একুশের মিলনমেলা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন যশোর- আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন এবং ভারতের পক্ষে বনগাঁর পৌর মেয়র শংকর আড্ড।

একুশের বেলা সাড়ে ১১টায় জিরো পয়েন্টে অস্থায়ী শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশ সরকারের এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, যশোর- আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন, বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মো. আজীজুর রহমান, জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মনজু, ভারতের বনগাঁর পৌর প্রশাসক শংকর আড্ড, রাজনৈতিক নেতারা, প্রশাসনের কর্মকর্তারা, কবি, সাহিত্যকরা।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটি বেনাপোল চেকপোস্টের নোম্যান্সল্যান্ডে পালিত হয় যৌথভাবে। হাজার হাজার বাংলা ভাষাপ্রেমী মানুষ প্রাণের আবেগে ছুটে আসে আয়োজনে। কিন্তু মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে এবার অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে সীমিত আকারে। বাংলাদেশ অংশে কোনো অনুষ্ঠান হয়নি। বাংলাদেশ থেকে ১০০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন ভারতীয় একুশের অনুষ্ঠানে।

এদিকে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে বাংলাদেশ ভারতের যৌথ উদ্যোগে মহান শহীদ দিবস আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। যদিও করোনার কারণে দুই দেশের মধ্যকার সম্প্রীতির আয়োজনটি এবার বেশ সীমিত পরিসরে ছিল।

গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় হিলি সীমান্তের চেকপোস্ট গেটের ২৮৫ নং মেইন পিলারের ১১ নং সাবপিলার সংলগ্ন শূন্যরেখায় দিবস পালন করা হয়। প্রথমে বিএসএফের বাধার কারণে শূন্যরেখায় আসতে না পারলেও পরে অনুমতি দিলে নিজ নিজ অংশে দাঁড়িয়ে কর্মসূচি পালন করে উভয় দেশের নাগরিকরা। তবে তাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি বিনিময় করতে দেয়া হয়নি।

সময় সেখানে সীমান্তের শূন্যরেখার উভয় পার্শ্বে বাংলাদেশ ভারতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা দাঁড়িয়ে প্রথমেই ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন স্বরূপ এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এর পর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাত্পর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন তারা।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে হাকিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন উর রশীদ, ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনুর রেজা, পৌর মেয়র জামিল হোসেন, প্যানেল মেয়র মিনহাজুল ইসলাম, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত আলী, সাপ্তাহিক আলোকিত সীমান্তের সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, প্রেস ক্লাব সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান ভারতের পক্ষে বালুরঘাট পৌর মেয়র হরিপদ সাহা, জয়েন্ট মুভমেন্ট ফর করিডোরের আহ্বায়ক নবকুমার দাশ, বিজিবির হিলি আইসিপি চেকপোস্ট কমান্ডার নায়েব সুবেদার ইয়াসিন আলী বিএসএফের হিলি ক্যাম্প কমান্ডার ইন্সপেক্টর বিজয় শিংসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

ভারতের বালুরঘাট পৌরসভার মেয়র হরিপদ সাহা জয়েন্ট মুভমেন্ট ফর করিডোরের আহ্বায়ক নবকুমার দাশ বলেন, আমরা দুই বাংলার মানুষ, আমাদের ভাষা এক, বাংলা আমাদের মায়ের ভাষা। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে দুই দেশকে বিভাজন করতে পারলেও আমাদের মন, আত্মাকে ভাষাকে বিভাজন করতে পারেনি, বরং আমাদের আরো কাছে টেনেছে। আমাদের দুই বাংলার যে মিলন, যে সেতু তা শুধু যে ভাষা ধর্মের ভিত্তিতে তা নয়, আন্তরিকতার সঙ্গে অন্তরের সঙ্গে মেলানোর যে জায়গা সেটি হলো বাংলা ভাষা। বাংলা ভাষা বাঙালির ভাষা। সবচেয়ে গর্বের বিষয় জন্মের পর থেকে আমরা ভাষায় কথা বলি, এর চেয়ে বড় পরিচয় আর আমাদের নেই।

হাকিমপুর (হিলি) পৌরসভার মেয়র জামিল হোসেন বলেন, আমাদেরও আশা প্রত্যাশা সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া একটা সময় গিয়ে এটি সরে যাবে, দুই বাংলার মানুষের মধ্যে যে ভালোবাসা তা আগেও ছিল, ভবিষ্যতেও এমনি থাকবে। দুই দেশের বিভিন্ন সংগঠনের যৌথ আয়োজনে কয়েক বছর ধরে হিলি সীমান্তের শূন্যরেখায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে আসছিলাম। তবে এবার করোনার কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে করতে না পারায় একত্রে মিলিত হতে না পারায় কিছুটা দুঃখ লাগছে।

আরও