বহরের প্রথম এটিআর ৭২-৬০০ মডেলের একটি উড়োজাহাজ ৯ অক্টোবর দেশে আনে নতুন বেসরকারি এয়ারলাইনস এয়ার অ্যাস্ট্রা। অভ্যন্তরীণ রুটে কার্যক্রম চালুর অপেক্ষায় থাকা সংস্থাটি শিগগিরই একই মডেলের আরো তিনটি উড়োজাহাজ আনছে। চাহিদা বাড়ায় দেশের বাকি দুই বেসরকারি এয়ারলাইনসও তাদের বহর সম্প্রসারণের কার্যক্রম চূড়ান্ত করেছে। সব মিলিয়ে আগামী বছরের মধ্যে তিন বিমান সংস্থার বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরো ১১টি উড়োজাহাজ।
এয়ারলাইনসগুলো বলছে, কভিড-পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক রুটে ধারাবাহিকভাবেই যাত্রী বাড়ছে। চাহিদা রয়েছে অভ্যন্তরীণ রুটেও। অন্যদিকে আগামী বছর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নেও বিভিন্ন প্রকল্প চলমান। আর এসব সুযোগকে কাজে লাগাতে অভ্যন্তরীণ রুটের পাশাপাশি নতুন নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলো। তবে আকাশপথের ব্যবসা ও ফ্লাইট কার্যক্রম বাড়াতে হলে বহরে নতুন নতুন উড়োজাহাজ সংযোজনের বিকল্প নেই। সে অনুযায়ীই পরিকল্পনা করেছে সংস্থাগুলো। বর্তমানে চালু থাকা দুটি বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা ও নভোএয়ারের বহরে উড়োজাহাজ রয়েছে মোট ২৩টি। আর চালু হতে যাওয়া এয়ার অ্যাস্ট্রাসহ মোট তিনটি বেসরকারি এয়ারলাইনসের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা বেড়ে ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিকে হবে ৩০টি, দ্বিতীয় প্রান্তিকে গিয়ে দাঁড়াবে ৩৪টিতে।
জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে এয়ারলাইনস প্রতিষ্ঠান হিসেবে তালিকাভুক্তি ও ফ্লাইট পরিচালনার আবেদন জমা দেয় এয়ার অ্যাস্ট্রা। গত বছরের ৪ নভেম্বর সংস্থাটি এনওসি (অনাপত্তি সনদ) পায়। পরবর্তী সময়ে দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য এটিআর ৭২-৬০০ মডেলের চারটি উড়োজাহাজ লিজ নেয় প্রতিষ্ঠানটি। এর প্রথমটি বুলগেরিয়ার সোফিয়া থেকে ৫ অক্টোবর রওনা হয়ে মিসরের কায়রো, ওমানের মাস্কাট ও ভারতের আহমেদাবাদ হয়ে দেশে পৌঁছায় ৯ অক্টোবর। অন্য তিনটি উড়োজাহাজও শিগগিরই বহরে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এয়ার অ্যাস্ট্রার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ বণিক বার্তাকে বলেন, শিগগিরই কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করছি। এরই মধ্যে একটি উড়োজাহাজ দেশে এসেছে। অন্যগুলোও আসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এখন বেবিচকে এওসির (এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেট) জন্য আবেদন করা হবে। সেটি পেলে বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য টিকিট বিক্রি শুরু হবে। আর যাত্রার প্রথম দিন থেকেই দেশের অভ্যন্তরীণ রুটের প্রতিটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এরই মধ্যে আমাদের লোকবল নিয়োগ, বিভিন্ন বিমানবন্দরে অফিস স্থাপনসহ সব কাজ প্রায় শেষের পথে।
এদিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস তাদের বহরে আগামী বছরের মধ্যে যুক্ত করবে আরো সাতটি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ও তিনটি ব্র্যান্ডনিউ এটিআর ৭২-৬০০ উড়োজাহাজ। বর্তমানে এয়ারলাইনসটির বহরে ১৬টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং সাতটি এটিআর ৭২-৬০০। এসব উড়োজাহাজ দিয়ে বর্তমানে সংস্থাটি সব অভ্যন্তরীণসহ আন্তর্জাতিক রুট সিঙ্গাপুর, চেন্নাই, মালে, গুয়াংজু, কুয়ালালামপুর, দোহা, শারজাহ, দুবাই, মাস্কাট ও কলকাতায় ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আগামী বছর পর্যায়ক্রমে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে সেই রুটগুলোর ফ্লাইট সক্ষমতা বাড়াবে এয়ারলাইনসটি।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামী দুই বছরের মধ্যে লন্ডন, রোম, আমস্টারডামসহ ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্য এবং ২০২৫ সালের মধ্যে নিউইয়র্ক ও টরন্টোতে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে তারা। এজন্য এয়ারবাস ৩৩০ এবং এয়ারবাস ৯০০ মডেলের উড়োজাহাজ সংগ্রহের লক্ষ্যেও বিভিন্ন উড়োজাহাজ কেনাবেচা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে ইউএস-বাংলা। এ প্রসঙ্গে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন লুত্ফর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, শিগগিরই শারজাহ ও সিঙ্গাপুর রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া আসন্ন শীতকালীন সূচিতে ঢাকা-দিল্লি রুটের ফ্লাইট চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি বহরে নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে ধারাবাহিকভাবে দেশের প্রধান শ্রমবাজার এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে ফ্লাইট সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
আরেক বেসরকারি এয়ারলাইনস নভোএয়ারের বহরে বর্তমানে সাতটি এটিআর ৭২-৫০০ উড়োজাহাজ রয়েছে। এগুলো ব্যবহার করে দেশের অভ্যন্তরীণের পাশাপাশি ঢাকা-কলকাতা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে এয়ারলাইনসটি। নভোএয়ার চলতি বছর বহর সম্প্রসারণ না করলেও আগামীতে সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এজন্য তারা উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। নভোএয়ার মূলত রিজিওনাল রুটের উপযোগী এয়ারবাস ৩২০ উড়োজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে বলে জানা গিয়েছে।
বেবিচক সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর ব্যবহার করে বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলো প্রতিদিন পাঁচ হাজার যাত্রী পরিবহন করছে। প্রক্ষেপণ বলছে, কেবল বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোই আগামী বছর দৈনিক সাত হাজার যাত্রী পরিবহন করবে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলে যাত্রীসেবা বাড়াতে দেশের সব অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর আধুনিকায়ন করছে বেবিচক। অন্যদিকে আগামী বছরের অক্টোবরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কাজ শেষ হবে। বর্তমান টার্মিনালে বছরে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ যাত্রী হ্যান্ডেল সক্ষমতা থাকলে তৃতীয় টার্মিনাল চালু হওয়ার পর তা বেড়ে পৌঁছাবে ২ কোটি ২০ লাখে।