পরিবেশকর্মীদের তত্পরতায় পাখি বাড়ছে চলনবিলে

নাটোরের চলনবিল অঞ্চলের সিংড়া ও গুরুদাসপুর উপজেলায় সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে নামতে শুরু করে বন্যার পানি। এরই মধ্যে চলনবিলের অল্প পানিতে মাছ শিকার করতে লাখ লাখ পাখির আগমন ঘটেছে এ দুটি উপজেলোয়।

নাটোরের চলনবিল অঞ্চলের সিংড়া গুরুদাসপুর উপজেলায় সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে নামতে শুরু করে বন্যার পানি। এরই মধ্যে চলনবিলের অল্প পানিতে মাছ শিকার করতে লাখ লাখ পাখির আগমন ঘটেছে দুটি উপজেলোয়। পাখির কলকাকলিতে এখন মুখর পুরো চলনবিল। পাখির ডাক ডানা ঝাপটানোর দৃশ্য মুগ্ধ করছে যে কাউকে। -১০ বছর ধরে পাখির এমন আগমন দেখেননি চলনবিলবাসী। তবে সরকারিভাবে চলনবিলে জরিপ না হওয়ার কারণে ঠিক কত প্রজাতির পাখি এখানে আসে তার কোনো তথ্য নেই বণ্যপ্রাণী প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে।

রাজশাহী বন্যপ্রাণী প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, কয়েক বছরের তুলনায় এবার চলনবিলে অতিথি পাখির আগমন ঘটেছে বেশি। এর অন্যতম কারণ পরিবেশকর্মীদের বিভিন্ন পদক্ষেপ। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে চলনবিলে অসাধু পাখি শিকারিদের তত্পরতা বেড়ে যায়। শিকারিদের দৌরাত্ম্য কমাতে পরিবেশকর্মীরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন। 

চলনবিলের পাখি শিকার বন্ধ করতে ১২ বছর ধরে কাজ করছে চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটি। তাদের ১০১ সদস্য প্রায় প্রতিদিনই ভোর রাতে সিংড়া উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছেন। শিকারিদের হাতে আটক হওয়া পাখি অবমুক্ত করছেন। ধ্বংস করছেন ফাঁদ। অপরদিকে চলতি বছর থেকে গুরুদাসপুর উপজেলার গুরুদাসপুর জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির পাঁচ সদস্য অভিযান পরিচালনা করছেন।

চলনবিলের ঐতিহ্য ধরে রাখব, সবাই মিলে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করব’—এমন স্লোগান সামনে রেখে মাঠে-ময়দানে ছুটে চলেছেন চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্যরা। ২০১২ সালের মার্চ মাসে তরুণ সংগঠক সংবাদকর্মী মো. সাইফুল ইসলাম চলনবিল অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী পাখি রক্ষায় ১১ সদস্যের সংগঠনটি গড়ে তোলেন। তাকেই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। ক্রমেই সংগঠনটি বিস্তৃতি লাভ করে। ২০১৪ সালের ১১ জুন শিক্ষক, সমাজসেবক, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, শিক্ষার্থী তরুণদের নিয়ে গঠন করা হয় ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। প্রথম বছরে একদিনেই তারা শতাধিক আটক অতিথি পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত করেন এবং পাঁচজন পাখি শিকারিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদানের ব্যবস্থা করেন। শুরু হয় চলনবিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তাদের ছুটে চলা। পর্যন্ত সাড়ে সাত বছরে তারা চলনবিলাঞ্চলে প্রশাসনের সহযোগিতায় তিন শতাধিক অভিযান পরিচালনা করেছেন। প্রায় সহস্রাধিক পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত করেছেন তারা।

চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, পাখি শিকার বন্ধের পাশাপাশি সচেতনতামূলক লিফলেট, মাইকিংয়ের কারণে আগের চেয়ে অনেক সচেতন এখন চলনবিলের মানুষ। কেউ পাখি শিকার করতে চাইলে বিভিন্নভাবে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে। যে কারণে দিন দিন চলনবিল অঞ্চলে পাখি শিকার বন্ধ হওয়ার কারণে পাখির সংখ্যা বাড়ছে।

আরও