স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

লিফটের দরজা আটকে যায় স্বজনদের ধাক্কাধাক্কিতে

রোগী মৃত্যুর ঘটনায় গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লিফটের দরজা আটকে যায় স্বজনদের ধাক্কাধাক্কিতে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত বিভাগ।

রোগী মৃত্যুর ঘটনায় গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লিফটের দরজা আটকে যায় স্বজনদের ধাক্কাধাক্কিতে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গণপূর্ত বিভাগ। এর আগে আটকে পড়া ব্যক্তিরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে রোগী মৃত্যুর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে দায়ী করেছিলেন। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গতকাল হাসপাতালে গিয়ে তদন্তকাজ শুরু করে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো চিঠিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গণপূর্ত বিভাগ দাবি করেছে, আটকে পড়া রোগীসহ লোকজন দরজা ধাক্কাধাক্কি করায় লিফটেরডোর সেফটি কাজ করেনি। এছাড়ারোগীটি ৪৫ মিনিট লিফটে আটকা ছিল বলে পত্রিকা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যটি সঠিক নয় বলে উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে দাবি করা হয়, লিফটটি ১০-১৫ মিনিট আটকে ছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর রোববার পাঠানো ওই অবহিতকরণ চিঠিটি তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম ঢাকা গণপূর্ত /এম বিভাগ ১০-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হালিম স্বাক্ষরিত। চিঠিতে পরিচালক প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোববার এম/এস রওশন এলিভেটরের সরবরাহ করা মুভি ব্র্যান্ডের একটি লিফট বেলা সোয়া ১১টার দিকে রোগী দর্শনার্থীসহ হঠাৎ আটকে যায়। প্রাথমিকভাবে লিফটটি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য নবম দশম তলার মাঝখানে আটকে গেলে লিফটির এআরডি কাজ করার জন্য এক মিনিট প্রয়োজন হয়। কিন্তু লিফটে আটকে পড়া লোকজন দরজা ধাক্কাধাক্কি করায়ডোর সেফটি কাজ করেনি। লিফট অপারেটর দরজা খোলার আগেই রোগীসহ লোকজন দরজা খুলে বের হয়ে আসে। এসব কাজ করতে ১৫-২০ মিনিট পার হয়। মমতাজ বেগম (৫৩) হার্টের রোগী ছিলেন। তৎক্ষণাৎ রোগীকে জরুরি বিভাগে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, লিফটটি নিয়মিত সার্ভিস মেইনটেন্যান্স করা হয় এবং বর্তমানে লিফটটি চালু আছে। আটকে পড়া রোগীসহ অন্যান্য লোকজন দরজা ধাক্কাধাক্কি করায় লিফটে সমস্যা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোগী ৪৫ মিনিট আটকা পড়েছিল বলে যে তথ্য পত্রিকাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে তা সঠিক নয়।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাসুদ রেজা খান, উপপরিচালক মো. খায়রুজ্জামান এবং ডেন্টাল বিভাগের পরিচালক মাহমুদা বেগমের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত দল গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তকাজ শুরু করেন।

আরও