স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি দেশ: জামায়াত আমির

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া বা জাপানের মতো দেশগুলো স্বাধীনতার পর স্বল্প সময়ে অভাবনীয় উন্নতি করলেও স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও আমাদের দেশের অবকাঠামো ও শিল্প খাত অনেক পিছিয়ে আছে। আজ শনিবার সকালে বগুড়া সার্কিট হাউসে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, বর্তমানে দেশের তৈরি পোশাক খাত মারাত্মক সংকটের মুখোমুখি। বিদ্যুৎ ও সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় পোশাক খাতের উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ফলে ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন, শ্রমিক ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক বায়াররা অন্য দেশের দিকে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, দেশকে ভালোবাসার জায়গা থেকেই আমরা দেশী-বিদেশী কারিগরি বিশেষজ্ঞদের একটি টিমের মাধ্যমে সরকারকে বিনামূল্যে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার সংকটের কথা স্বীকার না করে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়েছে। বাধ্য হয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বৈষম্য দূরীকরণ, বেপরোয়া দলীয়করণ বন্ধ, চাঁদাবাজি-দুর্নীতি প্রতিরোধ, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও সারের সরবরাহ নিশ্চিত করার ছয় দফা দাবিতে আন্দোলন ও লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছি।

বগুড়া উত্তরবঙ্গের নাভি ও সাতমাথার ঐতিহাসিক সংযোগস্থল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি আগে একটি মিনি শিল্পনগরী ও এডুকেশন ভিলেজ ছিল। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছরে একটি মেডিকেল কলেজ ছাড়া শিক্ষার বড় কোনো অগ্রগতি এখানে হয়নি, শিল্পকারখানাও টিকে থাকেনি। আওয়ামী লীগসহ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বিগত কোনো সরকারই বগুড়াকে তাদের প্রাপ্য উন্নয়ন দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী যেমন সারা বাংলাদেশ দেখবেন, বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সারা দেশের মানুষের অধিকারের চৌকিদারি ও পাহারাদারি করার দায়িত্ব আমার। ভোলা, যশোর, সাতক্ষীরা কিংবা রংপুরের তিস্তা পাড়ের মানুষের অধিকার নিয়ে যেমন সংসদে কথা বলেছি, তেমনি বগুড়ার আলোচনার আগেই তার ন্যায্য পাওনাটুকু পেয়ে যায়-সে জন্য আমরা রাজপথ ও সংসদে আমাদের জোর দাবি বজায় রাখব।

ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রের শাসনতন্ত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের জন্য অনুষ্ঠিত গণভোটে ৮২ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ 'হ্যাঁ'-এর পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় এসেই সে ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। সত্তরের নির্বাচনে জনগণের রায় অমান্য করার পরিণতি শুভ হয়নি। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের রায় বাস্তবায়ন করা উচিত।

দেশের গণমাধ্যম নিয়ে তিনি বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ। সাংবাদিকরা সৎ ও বস্তুনিষ্ঠ থাকলে অন্য সব বিভাগ সঠিকভাবে চলতে বাধ্য হয়। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে সাংবাদিকদের ইতিবাচক দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান।

জামায়াতে ইসলামী বগুড়া মহানগর ও জেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সংবাদকর্মীদের পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে জামায়াত আমির ধুনট উপজেলায় শহীদ আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত ও স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সার্কিট হাউজের সভা শেষে দুপুরে বগুড়া জেলা ও মহানগর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে যোগ দেন।

আরও