প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবি

রাকসুর কার্যালয়ে ছাত্রদলের ভাঙচুর, অফিসে তালা

রোববার ছিল মনোনয়নপত্র গ্রহণের শেষদিন।

রোববার সকালে রাকসু নির্বাচন কমিশন অফিসে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীর নেতৃত্বে চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করা হয়। এরপর নির্বাচন কমিশন অফিসে তালা লাগিয়ে অবস্থান শুরু করে শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণের শেষদিনের সকল কার্যক্রম পণ্ড করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।

রোববার (৩১ আগস্ট) সকালে রাকসু নির্বাচন কমিশন অফিসে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীর নেতৃত্বে চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করা হয়। এরপর নির্বাচন কমিশন অফিসে তালা লাগিয়ে অবস্থান শুরু করে শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।

এরপর সাবেক সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে এসে শাখা ছাত্র নেতা-কর্মীদের বাধার সম্মুখীন হন। আম্মার নিজেও তালা মারা ফটকের সামনে অবস্থান করছেন। এসময় বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা এসে শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই মূলত কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এ সময় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছি। তবে তারা আমাদের দাবি মানছেই না। তারা রাকসুর ফি দিয়েছে কিন্ত তারা ভোটার হতে পারছে না। আমরা এই বৈষম্য নিরসন করেই কর্মসূচি শেষ করব।'

তাদের কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে ইউট্যাব রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক ও ফোকলোর বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, 'ভোটার তালিকায় প্রথম বর্ষ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এখানে ছাত্রদল এই দাবিতে কর্মসূচি পালন করছে। আমরা তাদের দাবিতে সংহতি জানাই।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমরা দুই পক্ষকেই বলেছি তারা যেন সহনশীল থেকে যে কোনো কর্মসূচি পালন করে। দুপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই সমাধানের চেষ্টা চলছে।‘

এদিকে মনোনয়ন কার্যক্রম পণ্ড করে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের চেয়ার-টেবিল ভাংচুরের বিষয়ে প্রক্টর বলেন, ‘আমি আসলে ভিডিওটি দেখার সুযোগ পাইনি। আমরা বারবার বলেছি, কোনো বিষয়ে আপত্তি থাকলে সেটা নিয়ে দাবি জানাতেই পারে। কিন্তু নির্বাচন কার্যক্রম কোনোভাবেই যেন ব্যাহত না হয়, আমরা সে বিষয়ে চেষ্টা করছি।‘

উল্লেখ্য, পুনর্বিন্যস্ত তফসিল অনুযায়ী, রাকসু নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ সেপ্টেম্বর। রোববার ছিল মনোনয়নপত্র গ্রহণের শেষদিন।

আরও