আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে প্রবাসী ভোটারদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিত ভোটারদের কাছে এই ব্যালট পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
ইসির আওতাধীন ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (ওসিভি-এসডিআই)’ প্রকল্পের প্রধান সেলিম আহমেদ খান জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ও শনিবার পর্যন্ত ১০টি দেশের মোট ৪১ হাজার ৫৪৩ জন প্রবাসী ভোটারকে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে।
আজ রোববার কমিশনের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৪৮৩ জন।
প্রক্রিয়া ও সতর্কতা: কীভাবে ভোট দেবেন প্রবাসীরা
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রবাসী ভোটারদের পাশাপাশি নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তা এবং নিজ এলাকার বাইরে অবস্থানরত ভোটাররাও এই পদ্ধতিতে ভোট দিতে পারবেন। তবে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম ও সতর্কতা অনুসরণ করতে হবে—
- প্রতীক বরাদ্দের আগে ভোট দিলে তা বাতিল: ২১ জানুয়ারি প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের আগে কেউ যদি ব্যালট পূরণ করে পাঠিয়ে দেন, সেই ভোট বাতিল বলে গণ্য হবে।
- কিউআর কোড স্ক্যান করা বাধ্যতামূলক: ব্যালট খাম হাতে পাওয়ার পর অ্যাপে লগ-ইন করে খামের ওপরের কিউআর কোড স্ক্যান করতে হবে, যাতে ব্যালটটি সিস্টেমে শনাক্ত হয়।
- ভোট দেয়ার নিয়ম: ব্যালটে প্রতীকের পাশে টিক (✓) বা ক্রস (×) চিহ্ন দিয়ে ভোট দিতে হবে। সঙ্গে একটি ঘোষণাপত্রে নিজের নাম, এনআইডি নম্বর ও স্বাক্ষর দিতে হবে।
- ফেরত পাঠানোর পদ্ধতি: ব্যালটটি ছোট খামে ভরে সিল করে, ঘোষণাপত্রসহ বড় রিটার্ন খামে ভরে ডাকযোগে পাঠাতে হবে।
- ব্যয় ও ট্র্যাকিং: ভোটারদের কোনো খরচ বহন করতে হবে না। ডাক খরচ সরকার দেবে। অ্যাপের মাধ্যমেই ব্যালট পৌঁছেছে কি না, তা ট্র্যাক করা যাবে।
ইসি জানিয়েছে, ভোট গণনার আগে পর্যন্ত যেসব ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছাবে, কেবল সেগুলোই গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে।