চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২, মার পর চলে গেল ছেলে

শাওনের শরীরের ৫০ শতাংশ দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি তার শ্বাসনালি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

একই পরিবারের মোট ৯ জন দগ্ধ হয়ে বর্তমানে বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাকি সাতজনের অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এর মধ্যে মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং আশুরা আক্তার পাখির শরীরের ১০০ শতাংশই পুড়ে গেছে।

চট্টগ্রামের হালিশহরে আবাসিক ভবনে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় কিশোর শাওন (১৬)। এর আগে গতকাল সোমবার তার মা নুরজাহান আক্তার রানী (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এ নিয়ে এ দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়াল দুইজনে।

বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শাওনের শরীরের ৫০ শতাংশ দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি তার শ্বাসনালি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আপ্রাণ চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

একই পরিবারের মোট ৯ জন দগ্ধ হয়ে বর্তমানে বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাকি সাতজনের অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এর মধ্যে মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং আশুরা আক্তার পাখির শরীরের ১০০ শতাংশই পুড়ে গেছে। এ ছাড়া শিপন হোসেনের শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। শিশু ও কিশোরদের অবস্থাও সংকটাপন্ন— সামির আহমেদ সুমন ও চার বছরের শিশু আয়েশার শরীরের ৪৫ শতাংশ, ১০ বছরের উম্মে আয়মান স্নিগ্ধার ৩৮ শতাংশ এবং ছয় বছরের ফারহান আহমেদ আনাসের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

পেশায় গ্যারেজ মালিক সাখাওয়াত হোসেন গত দেড় বছর ধরে হালিশহরের ওই ফ্ল্যাটে সপরিবারে থাকছিলেন। সম্প্রতি তার ছোট ভাই সামির আহমেদ পরিবারসহ গ্রাম থেকে বড় ভাইয়ের বাসায় এসেছিলেন ডাক্তার দেখাতে। গতকাল সোমবার ভোরে রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ফ্ল্যাটের ভেতর থাকা ৯ জনই দগ্ধ হন। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ভবনের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্ল্যাটের দরজা-জানালা এমনকি লিফটের দরজাও চুরমার হয়ে যায়।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সারা রাত রান্নাঘরে গ্যাস জমে ছিল। ভোরে দেশলাই বা লাইটার দিয়ে চুলার আগুন ধরাতে গেলেই পুরো ঘরে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণ ঘটে।

আরও