জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

ক্যান্সারের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর ৮০ শতাংশই স্বল্পশিক্ষিত ও স্বাক্ষরজ্ঞানহীন

এনআইসিআরএইচে গত বছর ক্যান্সারের চিকিৎসা নেয়া ৩০ হাজার রোগীর বেশির ভাগই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পাননি। রোগ বিষয়ে সচেতনতা, প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা

রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইসিআরএইচ) গত বছর চিকিৎসা নিয়েছেন ৩০ হাজার রোগী। ক্যান্সারের চিকিৎসা নিতে আসা এ রোগীদের বেশির ভাগই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পাননি। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৫ সালের ক্যান্সার রোগী নিবন্ধনের তথ্য বলছে, নতুন করে ক্যান্সার শনাক্ত হওয়া রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশ স্বাক্ষরজ্ঞানহীন অথবা স্বল্পশিক্ষিত।

রোগ বিষয়ে সচেতনতা, ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ক্যান্সারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা শুরু করা জীবন রক্ষায় জরুরি। স্বাক্ষরজ্ঞানহীন অথবা স্বল্পশিক্ষিতরা অনেক সময় রোগের লক্ষণকে গুরুত্ব দেন না, চিকিৎসা নিতে দেরি করেন কিংবা হাতুড়ে চিকিৎসার শরণাপন্ন হন। এতে ক্যান্সার শনাক্তে বিলম্বের ঝুঁকি বাড়ে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসায় ইতিবাচক ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বিপুলভাবে কমে যায়। এছাড়া সামাজিক-আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়াদের মধ্যে পুষ্টির অভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে, যে কারণে তারা জরায়ুমুখ ও হেড-নেক (মুখ ও গলা) ক্যান্সারে বেশি ভোগেন। অনেক ক্ষেত্রে অল্প বয়সে বিয়ের কারণে এসব ক্যান্সারে আক্রান্তের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

এনআইসিআরএইচের ক্যান্সার রেজিস্ট্রি রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছর হাসপাতালের বহির্বিভাগে (ওপিডি) চিকিৎসা নিতে আসেন মোট ৪২ হাজার ৪৯৪ জন। তাদের মধ্যে ৩১ হাজার ৪৬ জনের ক্যান্সার শনাক্ত হয়। এর মধ্যে সেখানে চিকিৎসা নেয়ায় ৩০ হাজার ৮৩১ জন রোগীকে ওই বছরের ক্যান্সার নিবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

নিবন্ধন প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, রোগীদের ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ বা ১৮ হাজার ৯১৪ জন ছিলেন স্বাক্ষরজ্ঞানহীন। এছাড়া ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ বা ৫ হাজার ৭৯২ জন রোগী কেবল প্রাথমিক শিক্ষা পেয়েছেন। অর্থাৎ স্বাক্ষরজ্ঞানহীন অথবা স্বল্পশিক্ষিত রোগীর হার ৮০ দশমিক ২ শতাংশ।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি হাসপাতালের রোগীদের তথ্য জাতীয় প্রবণতা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত হবে না। বিভিন্ন গবেষণাতে ক্যান্সার রোগীদের শিক্ষাগত অবস্থানের পার্থক্য দেখা যায়। ক্যান্সার রোগীদের শিক্ষাগত ও আর্থসামাজিক বাস্তবতার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে দেশব্যাপী জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যান্সার রেজিস্ট্রি চালু করা জরুরি বলে মনে করেন তারা।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ডা. চৌধুরী সামসুল হক কিবরীয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শিক্ষার সঙ্গে ক্যান্সারের সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। তবে সচেতনতা অনেকাংশেই কিছু নির্দিষ্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। অনেক ক্ষেত্রে রোগী সচেতন থাকলে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্ত হয়। সে ক্ষেত্রে ক্যান্সার নির্মূল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যারা নিরক্ষর ও স্বল্পশিক্ষিত, তারা অনেক ক্ষেত্রে রোগ সম্পর্কে অবগত থাকেন না, অবহেলা করেন, কবিরাজি চিকিৎসা করান। এসব কারণে ক্যান্সারের জটিলতা বাড়ে।’

এনআইসিআরএইচের ২০২৫ সালের নিবন্ধনে রোগীদের বিভিন্ন তথ্যে বৈচিত্র্য দেখা যায়। মোট রোগীর মধ্যে ১৫ হাজার ৮০৯ জন (৫১ দশমিক ৩ শতাংশ) নারী এবং ১৫ হাজার ২২ জন (৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ) পুরুষ। রোগীদের গড় বয়স ছিল ৪৯ দশমিক ৯৩ বছর। সবচেয়ে কম বয়সী রোগীর বয়স ছিল এক বছর এবং সর্বোচ্চ ১০৯ বছর।

অঙ্গভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ক্যান্সার শনাক্ত হয়েছে পরিপাকতন্ত্রে—৬ হাজার ৩৮৮ জনের, যা মোট রোগীর ২০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এরপর রয়েছে শ্বসনতন্ত্রের ক্যান্সার, ৫ হাজার ৫৪৬ জন (১৮ শতাংশ)। নারীর প্রজনন অঙ্গের ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন ৪ হাজার ৭৩৪ জন (১৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ)। এছাড়া স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৮০০ (১২ দশমিক ৩২ শতাংশ)।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অধীনস্থ আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থার প্রকল্প গ্লোবক্যান ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০২৪ সালে নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন আনুমানিক ১ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭ হাজার ৮২০ এবং নারী ৭৯ হাজার ৪৪৩ জন। বয়স-মানকৃত ক্যান্সার আক্রান্তের হার (এএসআর) প্রতি লাখে ১১৭ দশমিক ৫ জন। পুরুষের ক্ষেত্রে এ হার ১৩৭ দশমিক ৬ এবং নারীর ক্ষেত্রে ৯৭ দশমিক ৫ জন।

৭৫ বছর বয়সের আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ক্রমপুঞ্জিত ঝুঁকি উভয় লিঙ্গের ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৮ শতাংশ। পুরুষের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি ১৪ দশমিক ৯ এবং নারীর ক্ষেত্রে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ। একই বছরে ক্যান্সারে মারা গেছেন আনুমানিক ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯০৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮৪ হাজার ৬৩৯ এবং নারী ৫৪ হাজার ২৬৭ জন। বয়স-মানকৃত মৃত্যুহার প্রতি লাখে ৮৮ দশমিক ১ জন—পুরুষের ক্ষেত্রে ১০৮ দশমিক ৬ এবং নারীর ক্ষেত্রে ৬৭ দশমিক ৬ জন। ৭৫ বছর বয়সের আগে ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকি পুরুষের ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ২ এবং নারীর ক্ষেত্রে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। এ সময়ে পাঁচ বছরের ক্যান্সার প্রিভ্যালেন্স (নির্দিষ্ট সময়ে কোনো জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেঁচে থাকা ক্যান্সার আক্রান্তের মোট সংখ্যা) ছিল ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৮১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৭ এবং নারী ১ লাখ ৭০ হাজার ৪৪১ জন।

নতুন রোগীর হিসাবে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন খাদ্যনালির ক্যান্সারে, ২৯ হাজার ৪১০ জন (১৫ দশমিক ৭ শতাংশ)। এরপর ফুসফুসের ক্যান্সার ২১ হাজার ৬৯৫ (১১ দশমিক ৬ শতাংশ), পাকস্থলীর ক্যান্সার ১৭ হাজার ৮৩০ (৯ দশমিক ৫ শতাংশ), ঠোঁট ও মুখগহ্বরের ক্যান্সার ১৪ হাজার ৮৮৯ (৮ শতাংশ) এবং জরায়ুমুখের ক্যান্সার ১১ হাজার ১০৬ (৫ দশমিক ৯ শতাংশ)।

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ক্যান্সার এপিডেমিওলজি বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. জহিরুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা অনেক। সবাই এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন না। ফলে এখানকার রোগীদের তথ্য দিয়ে পুরো দেশের চিত্র পাওয়া যায় না। দেশে ক্যান্সারের পূর্ণাঙ্গ চিত্র বুঝতে জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যান্সার রেজিস্ট্রি দরকার, যেটি বিশ্বের অন্যান্য দেশে চালু রয়েছে। আমাদের দেশে এখনো তা শুরু হয়নি। তবে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তারা আগ্রহ দেখিয়েছে। আশা করি, অতিদ্রুত এ-সংক্রান্ত কাজ শুরু করতে পারব।’

বাংলাদেশে ক্যান্সার রোগীদের শিক্ষাগত অবস্থার চিত্রে গবেষণাভেদে ভিন্নতা পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রেই স্বল্পশিক্ষিত ও স্বাক্ষরজ্ঞানহীন রোগীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা যায়। তবে এসব গবেষণা কোনো নির্দিষ্ট হাসপাতাল, অঞ্চল বা রোগীসমষ্টির ওপর পরিচালিত।

২০২৫ সালে প্রকাশিত ডায়েটারি ডাইভার্সিটি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল স্ট্যাটাস অব ক্যান্সার পেশেন্টস ইন সাদার্ন বাংলাদেশ শীর্ষক গবেষণায় দক্ষিণাঞ্চলের ৪০৩ জন ক্যান্সার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, রোগীদের ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ নিরক্ষর এবং ২০ দশমিক ৩ শতাংশের শিক্ষা প্রাথমিক পর্যায় পর্যন্ত। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি, ৫৪ শতাংশ রোগী প্রাথমিক বা তার চেয়ে কম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ ছিলেন। গবেষণাটিতে রোগীদের ৫৮ দশমিক ৩ শতাংশ ছিলেন গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দা।

রোগীদের শিক্ষাগত অবস্থার আরেকটি চিত্র পাওয়া যায় ২০২৩ সালে প্রকাশিত ক্লিনিকোপ্যাথোলজিক্যাল প্যাটার্নস অব ম্যালিগন্যান্ট সলিড টিউমরস ইন অ্যাডাল্ট পেশেন্টস: আ হসপিটাল-বেসড স্টাডি ফ্রম বাংলাদেশ শীর্ষক হাসপাতালভিত্তিক গবেষণায়। ১০০ জন প্রাপ্তবয়স্ক রোগীকে নিয়ে করা এ গবেষণায় ১৫ শতাংশ রোগী নিরক্ষর ছিলেন এবং ৪৮ শতাংশের শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল প্রাথমিক পর্যায় পর্যন্ত।

অন্যদিকে, ২০২২ সালে প্রকাশিত কোয়ালিটি অব লাইফ অব দ্য ক্যান্সার পেশেন্টস রিসিভিং হোম-বেসড প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইন ঢাকা সিটি অব বাংলাদেশ গবেষণায় ঢাকায় বাড়িতে প্যালিয়েটিভ কেয়ার গ্রহণকারী ৫১ জন ক্যান্সার রোগীর শিক্ষাগত অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। এতে ১১ দশমিক ৮ শতাংশ রোগী নিরক্ষর, ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ প্রাথমিক শিক্ষিত, ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষিত এবং ২১ দশমিক ৬ শতাংশ স্নাতক বা তার বেশি শিক্ষিত ছিলেন।

বগুড়ার টিএমএসএস ক্যান্সার সেন্টারের কনসালট্যান্ট ডা. মো. তৌছিফুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে দুর্বল স্বাস্থ্যবিধি ও পুষ্টির অভাবসহ বিভিন্ন কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় জরায়ুমুখ ও হেড-নেক (মুখ ও গলা) ক্যান্সারের মতো ব্যাধির প্রকোপ বেশি দেখা যায়। সচেতনতার অভাব ও অল্প বয়সে বিয়ের কারণে তা আরো ত্বরান্বিত হয়। তারা কম খরচে বা বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ফ্রি ওষুধের আশায় সরকারি জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে যান। বাংলাদেশে ক্যান্সারের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার জন্য এটিই একমাত্র সমন্বিত বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। সেখানে বিশেষায়িত অনকোলজি ডিপার্টমেন্ট ও দক্ষ সার্জিক্যাল অনকোলজিস্টসহ সব ধরনের চিকিৎসার সুযোগ এক ছাদের নিচে পাওয়া যায়। রোগীদের ভোগান্তি কমাতে এবং সারা দেশের ক্যান্সার সেবাকে আরো কার্যকর করতে জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের আদলে দেশের আটটি বিভাগীয় হাসপাতালেও একই ধরনের পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকরী ক্যান্সার ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।’

সব গবেষণায় অবশ্য স্বল্পশিক্ষিত রোগীর আধিক্য দেখা যায়নি। ২০২৩ সালে প্রকাশিত ক্যান্সার রিপোর্টসের গবেষণায় বাংলাদেশের একটি টিচিং হাসপাতালে ২১০ জন ক্যান্সার রোগীর শিক্ষাগত অবস্থান বিশ্লেষণ করা হয়। এতে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ রোগী নিরক্ষর ছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষিত ছিলেন ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ, মাধ্যমিক ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ, স্নাতক ৩১ শতাংশ এবং স্নাতকোত্তর ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ এ রোগীসমষ্টিতে উচ্চ শিক্ষিত রোগীর হার ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি।

বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অনকোলজি ইউনিটের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. জাফর মোহাম্মদ মাসুদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালে কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণীর রোগীরা যায়, যারা আর্থিকভাবে কিছুটা দুর্বল। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আসা ক্যান্সার রোগীদের সম্পর্কে জানা গেলে পুরো চিত্রটি বোঝা যেত। আমি একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়মিত রোগী দেখি। সেখানে আমি সব ধরনের রোগী পাই। ক্যান্সারকে সরাসরি শিক্ষাগত যোগ্যতার পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলা যায় না। এর পেছনে আরো অনেক কারণ আছে।’

আরও