বরিশালে আদালতের এজলাসে ভাংচুর ও বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন বরিশালের যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আবদুল্লাহ আল ইউসুফ ও অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মিল্টন হোসেন।
বরিশাল মহানগর দায়রা জজে দাখিল করা এ প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে মর্মে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির ১২ সদস্যর সনদ বাতিল করতে বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর আবেদন করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ব্যবস্থা নিতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর আবেদন করা হয়েছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের জামিন দেয়াকে কেন্দ্র করে বরিশালে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের এজলাসে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার। ঘটনার পরদিন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমানকে (লিংকন) আটক করেছে যৌথবাহিনী।
এদিকে একই ঘটনায় ৯ জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
গতকাল বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ রুল জারি করেন। আদালত অবমাননার ঘটনায় ৯ আইনজীবীর বিরুদ্ধে কেন যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। একইসঙ্গে তাদের ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান।
রুল জারি হওয়া বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নয় সদস্য হলেন সাদিকুর রহমান লিংকন, মীর্জা রিয়াজুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, নাজিমুদ্দিন পান্না, মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আব্দুল মালেক, সাঈদ ও হাফিজ উদ্দিন বাবলু।
এর আগে এজলাসে ভাংচুর এবং বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির ১২ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
মামলায় অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাস ভাঙচুর, সরকারি নথি ও মালামাল বিনষ্ট করা, বিচারককে ভয়ভীতি প্রদর্শন, শক্তির মহড়া ও দাপট প্রদর্শন, ত্রাস সৃষ্টি, অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বিচার প্রার্থীদের মধ্যে আতংক সৃষ্টি করে বিচার কাজে বাধা এবং এজলাস থেকে নেমে যেতে বাধ্য করা, সরকারি কর্মচারীদের মারধর করার অভিযোগ আনা হয়। পরে সাদিকুর রহমান লিংকনকে বুধবার গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।