বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে আবারো সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার গত বৃহস্পতিবার এ আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেন। বর্তমানে বিএনপির সর্বোচ্চ এ নেতা রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতলে চিকিৎসাধীন।
এর আগে গত ৬ মে শামীম এস্কান্দার বড় বোন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন। তবে সে আবেদন বিবেচনা করা যাচ্ছে না বলে মত জানিয়েছিল আইন মন্ত্রণালয়। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তখন বলেছিলেন, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়া বিদেশ যেতে চাইলে তাকে আবার কারাগারে ফিরে সরকারের কাছে নতুন করে আবেদন করতে হবে।
আজ সোমবার তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। এজন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বিদেশে নিতে অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এটি পঞ্চম আবেদন। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে বলেও তার প্রত্যাশা।
এ আবেদনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একান্ত সচিব দেওয়ান মাহবুবুর রহমান জানান, কিছু দিন আগে তারা একটি আবেদন দিয়েছিলেন। এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয় না, আইন মন্ত্রণালয়ের বিষয়। তাই সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস ও চোখের সমস্যাসহ নানা শরীরিক জটিলতায় ভুগছেন। গত ১১ এপ্রিল জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে খালেদা জিয়ার কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে বিএনপি। পরবর্তীতে গত ২৭ এপ্রিল তাকে এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় এক সপ্তাহ পর খালেদা জিয়া শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে তাকে জরুরিভাবে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। গত ৯ মে করোনার সংক্রমণ থেকে তিনি সুস্থ হন। এরপর গত ১৯ জুন বিএনপি চেয়ারপারসনকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নেয়া হয়।
সর্বশেষ রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ২৬ দিন চিকিৎসা শেষে গত ৭ নভেম্বর গুলশানের বাসায় ফেরেন খালেদা জিয়া। বাড়িতে ফেরার ছয় দিনের মধ্যে গত ১২ নভেম্বর আবারো তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। বর্তমানে খালেদা জিয়া সিসিইউতে চিকিৎসাধীন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ২০০৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয় খালেদা জিয়ার। এই মামলায় বন্দি থাকাকালেই তার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা দায়ের হয়। এ মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড পান তিনি। আগের মামলায় হাইকোর্টে আপিল করার পর সাজা হয় দ্বিগুণ। ফলে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড হয় সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর।
দেশে করোনাভাইরাস মহামারির শুরুর দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন নিয়ে যাওয়ার পর বিশেষ বিবেচনায় মানবিক কারণে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি পান বিএনপি নেতা। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ প্রথমে ছয় মাসের জন্য সাময়িক মুক্তি দেয়া হয় তাকে। পরে দফায় দফায় এই মুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়।