ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানো এখন সাতক্ষীরার ১০ হাজার মানুষের পেশা

উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর অর্থের অভাবে পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায় সাতক্ষীরার আশাশুনি সদরের যুবক আব্দুর রাজ্জাকের। এরপর টানা তিন বছর চেষ্টা করেও জোটেনি তেমন কোনো কর্মসংস্থান। বাধ্য হয়ে দুই বছর আগে তিনি সিদ্ধান্ত নেন ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাবেন।

 উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর অর্থের অভাবে পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায় সাতক্ষীরার আশাশুনি সদরের যুবক আব্দুর রাজ্জাকের। এরপর টানা তিন বছর চেষ্টা করেও জোটেনি তেমন কোনো কর্মসংস্থান। বাধ্য হয়ে দুই বছর আগে তিনি সিদ্ধান্ত নেন ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাবেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্র্যাকের সমিতির মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি রিকন্ডিশন্ড মোটরসাইকেল কেনেন। বর্তমানে এ মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন করে দিনে তার আয় খরচ বাদে ৪০০-৫০০ টাকা। এ টাকা দিয়েই সংসারের ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি শোধ করছেন ব্র্যাক সমিতির ঋণ।

সাতক্ষীরায় আব্দুর রাজ্জাকের মতো ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানোকে বর্তমানে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে শিক্ষিত ও স্বল্প শিক্ষিত ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। বেকারদের পাশাপাশি অনেকেই আছেন, যারা বিভিন্ন এনজিও ও স্থানীয় সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে মোটরসাইকেল কিনে ভাড়ায় চালিয়ে নিজেদের পড়ালেখার খরচ মেটাচ্ছেন।

আশাশুনির চাপড়া গ্রামের সোহরাব হোসেন এখন সাতক্ষীরা সিটি কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র। অথচ বাবা দরিদ্র হওয়ায় তার পড়ালেখাই প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। বর্তমানে তিনি মোটরসাইকেল চালিয়ে নিজের খরচ মেটানোর পাশাপাশি পরিবারকেও সহায়তা করছেন। সোহরাব হোসেন বলেন, এসএসসি পাস করার পর অর্থকষ্টের কারণে পড়ালেখা প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। কোনো উপায় না দেখে স্থানীয় একটি সমিতি থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নেন। এরপর সে টাকা দিয়ে একটি পুরনো মোটরসাইকেল কিনে শুরু করেন ভাড়ায় চালানো। বর্তমানে এ থেকে যে আয় হয় তা দিয়ে তিনি নিজের পড়ালেখার খরচ বহন করছেন। পরিবারকে সহায়তার পাশাপাশি পরিশোধ করছেন সমিতির ঋণ।

একইভাবে সাতক্ষীরা সদরের মনিরুল ইসলাম মনির দুই ছেলে-মেয়ের পড়ালেখা ও সংসার চলছে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে। মনিরুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত কোনো কাজ না থাকায় বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে তিনি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানো বেছে নিয়েছেন। এ থেকে তার প্রতিদিন আয় ৫০০-৬০০ টাকা।

সাতক্ষীরার ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রকি বলেন, এ জেলার সাত উপজেলায় বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চলছে। এসব চালকের অনেকেই শিক্ষিত ও অল্প শিক্ষিত বেকার যুবক। তারা অন্য কোনো চাকরি বা কাজের ব্যবস্থা করতে না পেরে বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে এ পেশা বেছে নিয়েছেন।

সাতক্ষীরা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুম বলেন, আমাদের দেশে শিক্ষিত বেকার যুবকের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সেক্ষেত্রে বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে কেউ যদি সব আইন মেনে এ পেশায় আসেন, তবে তা ইতিবাচক।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক হারুন-অর-রশিদ বলেন, রাজধানী ঢাকায়

আরও