সম্প্রতি ভারি বৃষ্টি ও আগাম বন্যার কারণে খাল, বিল ও বিভিন্ন জলাশয় নতুন পানিতে ভরে উঠেছে। পর্যাপ্ত ও পরিষ্কার পানি পাওয়ায় চাষীরা এখন পাট কাটা, জাগ দেয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দাম ভালো পাওয়ায় তারা এবার লাভের আশা দেখছেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ১৪ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। এটি গত বছরের চেয়ে প্রায় ১০০ হেক্টর বেশি। জেলায় দেশী, তোষা, মেছতা, কেনাফসহ নানা উন্নত জাতের পাটের চাষ বেশি হয়েছে। জেলার মধ্যে উল্লাপাড়া উপজেলায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পাট আবাদ হয়েছে।
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘উল্লাপাড়া একটি কৃষিপ্রধান উপজেলা। এখানে সব ধরনের ফসল উৎপাদন হয়। বিশেষ করে পাট, সরিষা ও ক্ষীরার বাম্পার ফলন হয়ে। এ বছর উপজেলায় ১ হাজার ৬৭১ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ৪৫ হেক্টর বেশি। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিঘাপ্রতি গড়ে আট মণ উৎপাদন হচ্ছে। উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন হাটে এরই মধ্যে পাট বেচাকেনা শুরু হয়েছে। হাটে পুরনো পাট ৫ হাজার ও নতুন পাট প্রায় ৪ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।’
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক একেএম মঞ্জুরে মওলা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ভালো ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় সিরাজগঞ্জ জেলায় প্রতি বছরই পাট আবাদ বাড়ছে। চলতি বছর জেলায় ১৪ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে, যা গতবারের চেয়ে ৯০ হেক্টর বেশি। পাট উৎপাদন ভালো হওয়া ও ভালো দাম পাওয়ায় কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এ কারণেই জেলায় প্রতি বছর পাট আবাদ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।’