প্রথমবারের মতো দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক পরামর্শ সভায় বাংলাদেশ ও উরুগুয়ে

আলোচনায় উভয় পক্ষ বিদ্যমান সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র পর্যালোচনা করে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জনগণ-থেকে-জনগণ পর্যায়ের যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জ্বালানি, কৃষি, ক্রীড়া ও সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও উরুগুয়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত করেছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বাংলাদেশ ও উরুগুয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক পরামর্শ বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ ও উরুগুয়ে ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এমওইউর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত, কাঠামোবদ্ধ ও সর্বাঙ্গীণ সংলাপের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হলো। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম ও বাংলাদেশে অবস্থিত উরুগুয়ের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত আলবার্তো আন্তোনিও গুয়ানি আমারিলা এমওইউতে স্বাক্ষর করেন।

আলোচনায় উভয় পক্ষ বিদ্যমান সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র পর্যালোচনা করে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জনগণ-থেকে-জনগণ পর্যায়ের যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জ্বালানি, কৃষি, ক্রীড়া ও সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ। দুই দেশ বেসরকারি খাতের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়, যার মধ্যে শীর্ষ বাণিজ্য ও শিল্প চেম্বারগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ উৎসাহিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত।

এ সময় উরুগুয়ে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, জ্বালানি এবং ক্রীড়াসহ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে। এ ছাড়া উভয় দেশ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়াদি নিয়ে মতবিনিময় করে। জাতিসংঘ কাঠামোর আওতায় বহুপাক্ষিকতা ও সহযোগিতার প্রতি তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তারা। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা মানবিক পরিস্থিতি সম্পর্কে উরুগুয়ে পক্ষকে অবহিত করে দেশটির পক্ষ থেকে অব্যাহত আন্তর্জাতিক সহায়তা কামনা করে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতিনিধি দলগুলো ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখা এবং পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে পরবর্তী দফা পরামর্শ সভা আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো সুসংহত ও এগিয়ে নিতে উচ্চপর্যায়ের সফর ও বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

আরও