আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের জন্য অন্তত ২০ ভাগ অর্থ বরাদ্দ করা, গণস্বাস্থ্যের করোনা টেস্টিং কিটের অনুমোদন দিয়ে ‘গণ টেস্টিং’ করা ও হাসপাতালের সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থাসহ সাতদফা দাবিতে নারায়ণগঞ্জে সিভিল সার্জন অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে গণসংহতি আন্দোলন।
‘বিনা চিকিৎসায় একজনের মৃত্যু নয়’ -এই দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় নারায়ণগঞ্জের সস্তাপুরে অবস্থিত সিভিল সার্জন অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের সদস্যরা। এ সময় বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ শাখার সমন্বয়ক অঞ্জন দাস, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা তরিকুল সুজন ও পপি রাণী সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
গণসংহতির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-
• বাজেটের অন্তত ২০ ভাগ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রাখতে হবে। সময়মতো অর্থ বরাদ্দ ও তার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
• অবিলম্বে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত করোনা টেস্টিং কিটের অনুমোদন দিয়ে গণটেস্টিং এর ব্যবস্থা করতে হবে।
• দ্রুততম সময়ে দৈনিক অন্ততপক্ষে ৫০ হাজার পিসিআর টেস্টের সক্ষমতা তৈরি এবং জেলা ও থানা পর্যায়ের টেস্ট সুবিধা সম্প্রসারিত করার দাবি জানান।
• শ্রমিক এলাকায় ও ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে পর্যাপ্ত কোয়ারেন্টিন বা আইসোলেশন ব্যবস্থা করা সহ হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
• অক্সিজেন গ্যাসের সিলিন্ডার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে।
• সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য হেলথ কার্ডের ব্যবস্থাকরাসহ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে স্বাধীন সাংবিধানিক কমিশনের অধীনে পরিচালনা করে রেগুলাটরি অথরিটি বা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্য কার্যক্রম এর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। • স্বাধীন বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, ঔষধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পণ্য ক্রয়ে সকল দুর্নীতির তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-আমলাসহ সকলের বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে বলে দাবি করেন।
ঘেরাও ও বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে সিভিল সার্জন ইমতিয়াজ আহমেদের মাধ্যমে ৭ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি স্বাস্থ্য বিভাগে প্রদান করেন।