ঈদ, পহেলা বৈশাখ ও দুর্গা পূজার মতো উৎসবকেন্দ্রিক সময়ে কাজের চাপ বাড়লেও বছরের বড় একটি সময় অলস কাটাতে হয় কারিগরদের। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পাওয়ারলুমের দাপট। সব মিলিয়ে আয়-রোজগারে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়ায় অনেক দক্ষ কারিগরই পেশা বদল করছেন। ফলে একদিকে কমছে অভিজ্ঞ তাঁত কারিগরের সংখ্যা, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মও এ পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছে।
মালিক ও শ্রমিকরা জানান, একসময় জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক তাঁত সচল থাকলেও নানা কারণে এখন অনেক তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে। ১৯৯২ সালে টাঙ্গাইলে এক লাখের বেশি তাঁত ছিল। ২০১৩ সালের শুমারি অনুযায়ী, তাঁতের সংখ্যা নেমে আসে প্রায় ৬০ হাজারে। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের ২০১৮ সালের তথ্যেও জেলার তাঁত ও তাঁতির সংখ্যা আরো কমে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৬৪৪-এ। এর মধ্যে বর্তমানে সচল রয়েছে ১১ হাজার ৩২১টি।
অন্যদিকে পিটলুম ও সেমি-অটো তাঁতের সংখ্যা কমলেও দ্রুত বাড়ছে পাওয়ারলুম। ফলে ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পের পাশাপাশি বদলে যাচ্ছে টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লীর চিত্র।
একাধিক তাঁত শ্রমিক বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে যে মজুরি পেতাম, এখনো সেই মজুরি পাই। সারা বছর প্রায় বসেই থাকতে হয়। তবে ঈদ, পহেলা বৈশাখ আর দুর্গা পূজায় কাজের চাপ বছরের অন্য সময়ের তুলনায় বেশি থাকে। বিভিন্ন সমস্যা এবং পাওয়ারলুমের কারণে দিন দিন এ পেশা ছেড়ে কারিগররা অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। এ কারণে তাঁত শিল্পে দক্ষ কারিগর আর নেই। ভবিষ্যতে দক্ষ কারিগর তৈরিও হচ্ছে না।’
টাঙ্গাইল শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোংয়ের মালিক রঘুনাথ বসাক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া আমাদের ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। আমাদের প্রতি সরকারের এমনিতেই আগ্রহ কম। সামান্য পুঁজির অভাবে খাতটি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এ খাতের বাজার ব্যবস্থাপনা দরকার।’
বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড বেসিক সেন্টার, টাঙ্গাইলের লিয়াজোঁ অফিসার জায়দুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বেসিক সেন্টার, টাঙ্গাইল তাঁতিদের তাঁত পেশায় জড়িত থাকার জন্য স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে তাঁত ঋণ দিচ্ছে। সুতা ও রঙ-রাসায়নিক ৫ শতাংশ শুল্কে আমদানির ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া তাঁতিদের নতুন নতুন ডিজাইন তৈরিতে সহায়তা প্রদান ও দক্ষ কারিগর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড বেসিক সেন্টার, টাঙ্গাইল সার্বিকভাবে তাঁতিদের সহায়তা দিচ্ছে।’