ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিলের ২৬টি সরকারি চেক জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫১ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অভিযুক্ত তিন কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এ আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।
ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অতনু বড়ুয়া আজ সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাময়িক বরখাস্ত কর্মচারীরা হলেন উপজেলা পরিষদের সাবেক সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পার্থ সারথী পাল, বর্তমান অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ ও নুর ইসলাম।
অতনু বড়ুয়া জানান, সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেলে সেদিন থেকেই তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ কার্যকর হয়। তবে নিয়ম অনুযায়ী বরখাস্ত থাকাকালীন সময়ে তারা নির্ধারিত হারে খোরপোশ ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন ও রাজস্ব খাতের ২৬টি সরকারি চেকের টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে ৫০ লাখ ৯৭ হাজার (প্রায় ৫১ লাখ) টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ৭ জুলাই ওই তিন কর্মচারী গ্রেফতার হন। এ ঘটনায় উপজেলা পরিষদের স্টেনোটাইপিস্ট-কাম-কম্পিউটার অপারেটর আবদুল হালিম চৌধুরী বাদী হয়ে ফুলগাজী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
তবে মামলাটি নিজেদের তদন্ত এখতিয়ারভুক্ত নয় উল্লেখ করে পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
এর পর গত রোববার ফুলগাজী আমলী আদালত থেকে অভিযুক্ত তিনজন জামিন পান। আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করে পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, এটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তফসিলভুক্ত অপরাধ। তাই মামলার নথিপত্র দুদকে পাঠানোর প্রয়োজন রয়েছে, যাতে কমিশন আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।