কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক রাতে পৃথক স্থানে দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি হাসপাতাল সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েকটি বসতঘর। তবে এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের মধুরছড়া ৪ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি ব্লকের একটি হাসপাতালে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস ও ব্লকের বাসিন্দাদের প্রচেষ্টায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও হাসপাতালটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পুড়ে গেছে মূল্যবান চিকিৎসা সামগ্রী।
ওবাটের হেলথ কো-অর্ডিনেটর ডা. মাহামুদুল হাসান সিদ্দিকী রাশেদ বলেন, আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে পুরো হাসপাতালটি পুড়ে গেছে। কীভাবে আগুন লেগেছে তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ হেলথপোস্ট থেকে আশপাশের রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উপকারভোগীরা বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন।
ধারণা করা হচ্ছে, এ অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা জানান, ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতায় কাজ করেছে। কেউ আহত নেই। কীভাবে আগুন লেগেছে, তা পরে বলা যাবে।
এর আগে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি ব্লকে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুড়ে যায় ৫টি ঘর।
গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর কুতুপালং ১ ডব্লিউ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সহস্রাধিক ঘর পুড়ে গিয়েছিল। নিহত হয়েছিল একজন। শীতের মৌসুমে আকস্মিকভাবে বারবার এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।