আমরা নির্বাচিত হলে জনগণই হবে সব ক্ষমতার মালিক বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে ১০ দলীয় জোটের সবাইকে নিয়ে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলব। যেখানে জনগণই হবে সব ক্ষমতার মালিক।
তিনি বলেন, বর্তমানে এক ব্যক্তি একসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, দলের প্রধান ও জাতীয় সংসদের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন—যা ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করে। জামায়াতে ইসলামী চায়, প্রধানমন্ত্রী যেন দলীয় প্রধান না হন। এতে প্রশাসনে স্বচ্ছতা আসবে, দুর্নীতি কমবে এবং রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুরে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, চাঁদাবাজির রাজনীতি নয়, ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ চাই। চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের রাজনীতির অবসান চায় জামায়াত। একটি দল ৫ আগস্টের পর বাসস্ট্যান্ড, সিএনজি স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজিতে জনগণকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। আমরা এদেশে কোনো চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী রাজনীতি দেখতে চাই না। আমরা ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ কায়েম করতে চাই।
চাঁদপুর নিয়ে তিনি বলেন, নদীমাতৃক এ জেলায় ভাঙন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও উচ্চশিক্ষা নিয়ে জনগণের যে ন্যায্য দাবি তা বারবার অবহেলিত হয়েছে। চাঁদপুরের মানুষ এখন আর প্রতিশ্রুতির রাজনীতি চায় না; তারা জবাবদিহিমূলক ও নৈতিক নেতৃত্ব চায়। আগামী দিনে চাঁদপুরের রাজনীতি হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার রাজনীতি যেখানে জনপ্রতিনিধি হবে জনগণের সেবক, মালিক নয়।
এ সময় তিনি চাঁদপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. শাহজাহান মিয়া ও চাঁদপুর-৪ আসনে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজীর হাতে দাড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে আপনারা দাড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গঠনের সুযোগ করে দেবেন। হ্যাঁ ভোট দিতে উৎসাহিত করেন।
এ সময় অ্যাড. শাহজাহান মিয়া নির্বাচিত হলে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন নির্মাণ, চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের পূর্ণাঙ্গ ভবন নির্মাণ, নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ এবং হাইমচরের চরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা ও কুমিল্লা অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা মো. লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সচিব মাওলানা হোসাইন আহমদ, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বুরহানুদ্দিন সিদ্দিকী, জামায়াতে ইসলামীর চাঁদপুরের সাবেক জেলা আমির মাওলানা আব্দুর রহিম পাটোয়ারীসহ অন্যান্য নেতারা।