চার রেলকর্মী বরখাস্ত

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুর

শিক্ষার্থীরা কয়েক দফায় ভাঙচুর চালান। তারা গাছের ডাল, বাঁশ, লাঠি ও ইট-পাটকেল দিয়ে স্টেশনের কাচের জানালা, ডাস্টবিন, দোকানপাট, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কক্ষ, সাইনবোর্ড ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করেন। রেলওয়ে থানা, পার্সেল অফিস ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যালয়েও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে রাত দেড়টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডির প্রচেষ্টায় স্টেশন ত্যাগ করেন শিক্ষার্থীরা

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুর চালিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে তারা ভাঙচুর চালান। রাত দেড়টার দিকে ক্যাম্পাসে ফিরতে শুরু করেন ওই শিক্ষার্থীরা।

এরই মধ্যে মারধরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চার রেলকর্মীকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মারধরের শিকার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলী বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মারধরের শিকার হন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলী

জানা গেছে, আইয়ুব আলী তার চাচাকে নিয়ে আসতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে গিয়েছিলেন। সেখানে রাবির ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্বরত রেলওয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আইয়ুব ওই শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বললে তাকে মারধর করে ফেলে রাখে রেলকর্মীরা।

ঘটনার প্রতিবাদে রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস হরিয়ান এলাকায় আটকা পড়ে। পরে শিক্ষার্থীরা রেললাইন ধরে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের দিকে এগিয়ে যান।

পরে রাত ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা কয়েক দফায় ভাঙচুর চালান। তারা গাছের ডাল, বাঁশ, লাঠি ও ইট-পাটকেল দিয়ে স্টেশনের কাচের জানালা, ডাস্টবিন, দোকানপাট, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কক্ষ, সাইনবোর্ড ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করেন। রেলওয়ে থানা, পার্সেল অফিস ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যালয়েও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে রাত দেড়টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডির প্রচেষ্টায় স্টেশন ত্যাগ করেন শিক্ষার্থীরা।

আইয়ুবের সহপাঠী মোহাম্মদ মিজান বলেন, রেলস্টেশনে রাবির কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে রেলওয়ের কর্মচারীদের বাগবিতণ্ডা হচ্ছিল। পরে আইয়ুব তাদের পক্ষে কথা বলায় তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি মানার আশ্বাস দেয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত করা সম্ভব হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ক্যাম্পাসে ফিরে গেছে। আশা করি, সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করবেন এবং ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বণিক বার্তাকে জানান, আইয়ুব আলীর চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার পাশাপাশি রেলের নিরাপত্তারক্ষী, টিটি ও গার্ডসহ সংশ্লিষ্টদের এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে অনুরোধ জানিয়েছি।

বিষয়টি নিয়ে পশ্চিম রেলের মহাপরিচালক আহম্মদ হোসেন মাসুম বণিক বার্তাকে বলেন, এ ধরনের সহিংসতা কাম্য নয়। শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পাঠানো হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও