ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকার নির্ধারিত ৬৬৪ টাকা ৩৯ পয়সা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন বিক্রেতারা। দুদিন ধরে শহরের মাংসের দোকান বন্ধ রেখেছেন তারা। দাম পুনর্বিবেচনা না করা পর্যন্ত মাংস বিক্রি বন্ধ রাখবেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
তাদের দাবি, খামার বা বেপারিদের কাছ থেকে প্রতি কেজি গরুর মাংস চামড়াসহ কিনতে হচ্ছে ৭২০ টাকা দরে। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি মাংস ব্যবসায়ীরা বিক্রি করেন ৭৫০ টাকা। এর কম দামে মাংস বিক্রি করা সম্ভব নয়।
মাংসের দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার বিকালে বিক্রেতারা জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন। তবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, সরকার নির্ধারিত দামেই মাংস বিক্রি করতে হবে। না হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এর আগে সোমবার সকালে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মাংসের দোকানে লিফলেট বিতরণ করা হয়। লিফলেটে ৬৬৪ টাকা ৩৯ পয়সা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি করার জন্যে নির্দেশনা দেয়া হয়।
শহরের ফারুকী বাজারে লিফলেট বিতরণের সময় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মচারী মো. পলাশ মণ্ডল জানান, মহাপরিচালকের কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বাজারে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। এর বেশি তার জানা নেই।
এদিকে গত সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত শহরের আনন্দ বাজার, ফারুকী বাজার, মেড্ডা বাজার, মৌড়াইলের বৌবাজার, কাউতলী বাজারসহ শহরের অর্ধশতাধিক দোকানে গরুর মাংস বিক্রি বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় মাংস না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মাংস ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা খামারি ও বেপারিদের কাছ থেকে গরু কেনেন। এতে প্রতি কেজি মাংসের দাম ৭২০ টাকার মতো পড়ে। কিন্তু সরকার ৬৬৪ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করেছে। তবে তা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাজারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। অবশ্যই দাম সমন্বয় করতে হবে। খামারে গরুর দাম কমাতে হবে।’