কাজ শেষ হওয়ার আগেই যমুনা তীর রক্ষা প্রকল্পের সিসি ব্লকে ধস

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকায় যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ ও নদীভাঙন রোধে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিসি ব্লক এবং জিও ব্যাগ ডাম্পিং বাঁধে ধস নেমেছে।

সম্প্রতি যমুনা নদীর পানির সামান্য চাপেই ১০ নম্বর সাইডের বেশকিছু ব্লক ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শিডিউল-বহির্ভূত গাফিলতির কাজ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নেয়ার আগেই এ ধসের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে স্থানীয় শত শত পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীভাঙন রোধে কোটি কোটি টাকার এ মেগা প্রকল্পে শুরু থেকেই অনিয়ম হয়ে আসছে। ব্লক স্লোপিং (ঢালু করা) করার ক্ষেত্রে যে সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও শিডিউল ছিল, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে তড়িঘড়ি কাজ শেষ করার পাঁয়তারা করেছিল।

নদীতীরের মাটি সঠিকভাবে ভরাট ও বিন্যস্ত না করেই সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ডাম্পিং করার কারণে পানির সামান্য চাপ আসতেই বাঁধটি তা সহ্য করতে পারেনি। চোখের পলকেই ১০ নম্বর সাইডের বিশাল অংশের ব্লকগুলো ধসে নদীর পানিতে নিমজ্জিত হয়। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই বাঁধের এ নাজুক দশা দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছে যমুনা নদীপাড়ের মানুষ। কাজ শেষ হতে না হতেই বাঁধ ধসে যাওয়ায় গোবিন্দপুর ও এর আশপাশের এলাকার শত শত পরিবার এখন নতুন করে নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

‎স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, ‘উজান থেকে পানির চাপ বেড়ে কিছু জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিলে নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।’ আরেক বাসিন্দা সাজু বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড যদি ঠিকভাবে কাজ করত, তাহলে এভাবে ব্লক ভাঙার ঘটনা ঘটত না, দেখার যেন কেউ নেই।’ ‎মতিয়ার রহমান বলেন, ‘এত টাকা খরচ হলেও বন্যা শুরু হওয়ার আগেই ব্লক ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে। আমরা অসহায় হয়ে দেখছি।’

এ বিষয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এখানে এখনো কাজ কমপ্লিট হয়নি। কাজের অগ্রগতি কেবল ৫৫-৫৬ শতাংশ হয়েছে। এখানে যেন বর্ষাকালে ধসে না যায়, এজন্য ঠিকাদার ড্রেসিং করে রাখছে। কাজ শেষ হবে ডিসেম্বরের মধ্যে। এ কারণে ডাম্পিংটা এখনো আমাদের প্রপার হয়নি। ডাম্পিং প্রপার না হওয়ায় এখানে যেহেতু ব্যাক ইরোশন হচ্ছে, পানির ফ্লোটা এখানে অনেক বেশি। এ কারণে স্কাওরিং হয়ে ব্লকগুলো নেমে গেছে। কাজ যেহেতু চলমান আছে, পানি নেমে গেলে অবশ্যই ঠিকাদার ঠিক করে দেবে।’

আরও