বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

দল গঠনের পর জিমি কার্টারকে চিঠি লেখেন জিয়াউর রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আজ ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে দলটির যাত্রা শুরু হয়।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আজ ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে দলটির যাত্রা শুরু হয়। 

জিয়াউর রহমান ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’ (বিএনপি) গঠনের কথা জানান ১৯৭৮ সালে। সরকারের অনুমোদন নিতে ওই বছরের ৩০ আগস্ট আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হয়। আবেদনের সঙ্গে জমা দেয়া হয় দলের ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র ও আনুষঙ্গিক কাগজপত্র। ৩১ আগস্ট বিএনপি অনুমোদন পেয়ে যায়। পরের দিন ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান দলীয় প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির পথচলার ঘোষণা দেন। 

দল গঠনের কিছুদিন পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের কাছে একটি চিঠি লেখেন জিয়াউর রহমান। ১৯৭৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সেই চিঠি এখানে অনূদিত আকারে তুলে ধরা হলো— 

প্রিয় প্রেসিডেন্ট

আপনি ১৯৭৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর যে চিঠি পাঠিয়েছেন, সেটি হাতে পেয়ে আমি আনন্দিত। বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আমাদের প্রচেষ্টায় আপনি যে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, এ জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। ১৯৭৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠন করা অপরিহার্য। 

আমাদের অর্থনৈতিক পরিকল্পনাগুলোর প্রাথমিক 

লক্ষ্য হলো সমাজের দরিদ্র অংশকে, বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকাগুলোয় সর্বাধিক সুবিধা নিশ্চিত করা। কৃষি, পরিবার পরিকল্পনা ও গ্রামীণ উন্নয়নে আমরা যে অগ্রাধিকার দিয়েছি, তাতে আপনার সমর্থন পেয়ে আমি উৎসাহ বোধ করছি। আশা করছি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর অব্যাহত সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা আমাদের জনগণের জন্য খাদ্য, নিরাপত্তা, আশ্রয় এবং পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে সক্ষম হব।

যুক্তরাষ্ট্রের মতো মর্যাদাশীল দেশের কাছ থেকে বড় ধরনের সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি আমি গভীরভাবে প্রশংসা করি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা অত্যন্ত জরুরি ও মূল্যবান খাদ্য সহায়তার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা উচিত। আমরা এখন ধীরে ধীরে আমাদের খাদ্যের ঘাটতি কমানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। এতে অবশ্য কিছুটা সময় লাগবে এবং আকস্মিক সংকটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ভোজ্যতেল সরবরাহসহ খাদ্য সহায়তার দৃঢ় ও অগ্রিম প্রতিশ্রুতি আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশাবাদী যে আমরা ধারাবাহিকভাবে এ বিষয়ে আপনার বোঝাপড়াটা কাজে লাগাতে পারব। আমরা আশা করি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সহায়তার মান এবং পরিমাণ—উভয়ই অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকবে। কারণ এ ধরনের সহায়তা আরো ভালো ও কার্যকর ব্যবহার করার সক্ষমতা আমাদের ক্রমাগত বৃদ্ধি পাবে।

এখানে আঞ্চলিক সহযোগিতার যে ধারণা, সেটার বিকাশে গঙ্গা অববাহিকার উন্নয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট গঙ্গা অববাহিকার উন্নয়নে অংশ নেয়ার বিষয়ে নেপাল তার ইচ্ছার ইঙ্গিত দিয়েছে। ভারত এখনো আমাদের প্রস্তাবের যুক্তি স্বীকার করবে বলে মনে হচ্ছে না। এ বিষয়ে আমাদের বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য একটি বাস্তববাদী ভূমিকা দেখতে পাই।

নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী আসনে বাংলাদেশকে নির্বাচিত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটিয়েছে, তাতে বাংলাদেশ সম্মানিত বোধ করছে। এটি আসলেই একটি বড় দায়িত্ব। কিন্তু বিশ্ব শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির পথে আমরা আমাদের ভূমিকা পালনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।

আন্তরিক শুভেচ্ছা

বিনীত

জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল। রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে এদিন তিনি রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হন। শুরুতে বিএনপি গঠনের আলোচনা ছিল না। ১৯৭৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠা লাভ করে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল)। তবে এর নেপথ্যের কারিগর ছিলেন জিয়াউর রহমান। তৎকালীন রাজনৈতিক ময়দানের চেনা মুখগুলোর একটা বড় অংশ জাগদলে যোগ না দেয়ায় তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি দলটি। এরপর ১৯৭৮ সালের ১ মে জিয়াউর রহমানকে চেয়ারম্যান করে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট’ ঘোষণা করা হয়। এটি ছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গ্রুপের প্লাটফর্ম। এভাবেই সেনাপ্রধান থেকে রাজনীতিবিদ বনে যান জিয়াউর রহমান।

১ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির আত্মপ্রকাশের দিন জিয়াউর রহমানকে আহ্বায়ক করে ৭৬ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন বিচারপতি আবদুস সাত্তার, মশিউর রহমান যাদু মিয়া, মোহাম্মদ উল্লাহ, শাহ আজিজুর রহমান, ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল হালিম চৌধুরী, রসরাজ মণ্ডল, আবদুল মোমেন খান, জামাল উদ্দিন আহমদ, ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মির্জা গোলাম হাফিজ, ক্যাপ্টেন (অব.) নূরুল হক, মোহাম্মদ সাইফুর রহমান, কেএম ওবায়দুর রহমান, মওদুদ আহমদ, শামসুল হুদা চৌধুরী ও এনায়েতুল্লাহ খান।


আরও