যুক্তরাষ্ট্রে আইএমএফ সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় শুক্রবার দুটি টিমের সঙ্গে বৈঠক হয় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থান করা বাংলাদেশ মিশনের। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিষয়টি তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
এ সময় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যে আলোচনাগুলো হয়েছে, সেগুলো পজিটিভ। অন্য ইস্যুগুলো আমাদের নির্বাচনী ইশতাহারের সঙ্গে মেলানো হচ্ছে। আমাদের ব্যাংকের যে সমস্যাগুলো আছে, তা সমাধানে আইএমএফের বিভিন্ন উইং ভূমিকা রাখতে চায়।’
আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেকগুলো ইস্যু সমাধান করেছি, বাকিগুলো সমাধানে আলোচনা চলবে, এটাই সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১৫ দিন পর আবার আলোচনা হবে। এরপর আমরা সিদ্ধান্ত নেব। আমাদের সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান হবে, এর জন্য পদক্ষেপ কী হবে—সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
আইএমএফ ঋণের কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে না বলে দিয়েছে কিনা—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু বলেন, ‘আলোচনায় এ ধরনের কোনো জায়গায় আমরা যাইনি। এখনো আলোচনা চলছে। যে বিষয়গুলো সমাধান হয়নি, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে। এখানে এখনই হ্যাঁ-না বলার সুযোগ নেই। এটা চলমান প্রক্রিয়া। এটা একদিন বা ১ ঘণ্টার বিষয় না।’
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজার পাঠানো গতকালের এক বার্তায় বলা হয়েছে, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে শুক্রবার বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল আইএমএফের সঙ্গে দুটি বৈঠক করেছে। প্রথম বৈঠকটি হয়েছে ওইদিন সকালে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন ও তার দলের সঙ্গে। আর বিকালে সংস্থাটির ডিএমডি নাইজেল ক্লার্ক ও তার দলের সঙ্গে দ্বিতীয় বৈঠকটি হয়।
বার্তায় আরো জানানো হয়, এসব বৈঠকে বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গি ও বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বিষয় তুলে ধরেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও ব্যাংক-আর্থিক খাতে সংস্কারের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। অধিকাংশ বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে। উভয় পক্ষই সম্মত হয়েছে যে কিছু বিষয় নিয়ে আরো আলোচনা করতে হবে। বিশেষ করে সরাসরি জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী।
আইএমএফ পরিষ্কার করে বলেছে, তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীজন। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের সময়কালে উন্নয়নের অংশীজন হয়েই আইএমএফ বাংলাদেশের পাশে থাকতে চায়।