মাছের প্রজনন মৌসুম শুরু হওয়ায় ৬৫ দিনের জন্য সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা দেয় মৎস্য অধিদপ্তর। ২০ মে মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল এ নিষেধাজ্ঞা। আজ মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে সেই নিষেধাজ্ঞা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জেলেরা সাগরে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিয়েছেন। এরই মধ্যে জাল ও নৌকা মেরামত করেছেন তারা। দীর্ঘ ৬৫ দিন পর কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পেলে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারবেন বলে আশাবাদী মিরসরাইয়ের প্রায় তিন হাজার জেলে। তবে জেলেদের অভিযোগ, মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হলেও এখনো দ্বিতীয় দফায় ৩০ কেজি চাল সহায়তা পাননি তারা।
সাগরে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা মানতে করা হয়েছে মাইকিং। নিয়মিত চালানো হচ্ছে অভিযান। সর্বশেষ গত ১১ জুলাই অভিযান চালিয়ে দুই হাজার মিটার বিভিন্ন ধরনের জাল পোড়ানো হয়।
উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাইয়ে ২৯টি জেলেপাড়ায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ২ হাজার ১২৬ জন। এছাড়া চলতি বছর প্রায় ৬০০ জন জেলে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছেন। এরই মধ্যে নিবন্ধিত জেলেদের সরকার থেকে দেয়া সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ায় জেলেরা সাগরে মাছ আহরণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার জন্য প্রত্যেক জেলে দুই দফায় ৮৬ কেজি চাল সহায়তা পেয়ে থাকেন। নিষেধাজ্ঞার সময় দুটি অর্থবছরের মাঝামাঝি হওয়ায় চাল সহায়তা দুই দফায় দেয়া হয়। প্রথম দফায় ৫৬ কেজি ও দ্বিতীয় দফায় ৩০ কেজি চাল দেয়া হয়। কিন্তু দ্বিতীয় দফার চালগুলো এখনো এসে পৌঁছেনি।
উপজেলার ডোমখালীর জেলে কাঁলাচান জলদাশ বলেন, ‘স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে জাল কিনেছিলেন। কিন্তু সরকার ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় ঋণের কিস্তি পরিশোধে হিমশিম খেতে হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পেলে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারব।’
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা নাসিম আল মাহমুদ জানান, আজ মধ্যরাত থেকে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে। তাই জেলেরা আবারো উৎসাহ-উদ্দীপনায় ইলিশ শিকার করতে পারবেন। নিষেধাজ্ঞাকালে প্রত্যেক জেলে পরিবারকে দুই দফায় ৮৬ কেজি চাল সহায়তা দেয়া হয় কিন্তু জেলায় এলেও উপজেলা পর্যায়ে এখনো দ্বিতীয় দফার চাল পৌঁছায়নি। কয়েকদিনের মধ্যেই দ্বিতীয় দফার চাল এসে পৌঁছাবে।