পঞ্চগড়ে সোলার প্রজেক্ট স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথম পর্যায়ে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ফেনীতে সরকারি সোলার পাওয়ার প্লান্টসহ নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের উদ্বোধন করবেন। সরকার আশা করছে, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

সরকারিভাবে পঞ্চগড়ে সোলার প্রজেক্ট স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। সোলার প্রজেক্টের সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য চায়না, দুবাই ও সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলকে নিয়ে পঞ্চগড় চিনিকলসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি এই কথা জানান।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ ও পঞ্চগড় চিনিকল পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে চায়না, সিঙ্গাপুর ও দুবাইসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং দেশীয় ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথম পর্যায়ে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ফেনীতে সরকারি সোলার পাওয়ার প্লান্টসহ নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের উদ্বোধন করবেন। সরকার আশা করছে, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরো বলেন, দেবীগঞ্জ এলাকায় বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক এগ্রোজোন তৈরি করা হবে। এছাড়া পুরো এলাকাকে সবুজায়ন হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এ অঞ্চলের জন্য সোলার প্রজেক্ট অত্যন্ত উপযোগী। খুব দ্রুত এই সোলার প্রজেক্টগুলোর নির্মাণকাজ শেষ করে ডিসেম্বরের মধ্যে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদের বিদ্যুতের চাহিদা দূর হবে। পাশাপাশি স্থানীয় বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগের ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিদ্যুৎ নিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করা হয়েছে। এ কারণে গ্রামের সাধারণ মানুষ এখন ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাচ্ছে না এবং এর জন্য প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় দ্রুত সোলার প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এতে গ্রাম পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সহায়তা মিলবে।

বিদেশী বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় জনগণকে কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এর ফলে এলাকার বেকারত্ব কমার পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।

চায়না প্রতিনিধি জুলং গ্রুপের চেয়ারম্যান পেং ওয়াং অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকা পরিদর্শন শেষে বলেন, পঞ্চগড়ের জমি প্রাকৃতিকভাবে ভালো এবং বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। তারা নিজ দেশে ফিরে বোর্ডসভায় বিষয়টি আলোচনা করবেন এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।

এ সময় পরিদর্শনকালে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মাহাবুব হোসেন, জেলা প্রশাসক মোসাম্মাৎ শুকরিয়া পারভীন, চায়না প্রতিনিধি জুলং গ্রুপের চেয়ারম্যান পেং ওয়াং, দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও