ডিআইইউতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া উচ্চপর্যায়ের অ্যাক্রেডিটেশন বিষয়ক আলোচনা

ড. মো. সবুর খান বলেন, পরিবর্তনশীল শিল্প ও পেশাগত চাহিদা পূরণে নতুন ধরনের শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল কোর্স শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানযোগ্যতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ সময় তিনি শিল্পখাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের যুক্ত করে ‘প্রফেসর অব প্র্যাকটিস’ পদ চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও অ্যাক্রেডিটেশন বা স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক হলে ‘ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিফিকেশন অ্যাসিউরেন্স সেল’-এর উদ্যোগে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ‘বৈশ্বিক যুগে গুণমান নিশ্চিতকরণ এবং উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মালয়েশিয়ান কোয়ালিফিকেশনস এজেন্সির (এমকিউএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দাতো’ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাতার বিন সাবরান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান।

বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সদস্য প্রফেসর ড. মো. ওয়াকিলুর রহমান।

এ সময় আরো বক্তব্য দেন এমকিউএর পরিচালক আবুল সামান বিন তাইপ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আর কবির, উপউপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিফিকেশন অ্যাসিউরেন্স সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. মোস্তফা কামাল।

মূল প্রবন্ধে দাতো’ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাতার বিন সাবরান বিশ্বব্যাপী উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে গুণগত মান নিশ্চিতকরণের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি মালয়েশিয়ান কোয়ালিফিকেশনস এজেন্সির কার্যক্রম ও দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এর মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়ান কোয়ালিফিকেশনস রেজিস্টার সংরক্ষণ, যোগ্যতা কাঠামো উন্নয়ন, স্বীকৃতি প্রদান, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রমের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং বিভিন্ন যোগ্যতার স্বীকৃতি সহজতর করা।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার এ সময়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত গুণগত মান। এ সময় তিনি ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা, ধারাবাহিক গুণমান উন্নয়ন, বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিং, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল ও নমনীয় শিক্ষাপদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর গুণগত মানস্বীকৃতির কার্যক্রম শুরু করেছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি একাডেমিক কর্মসূচি স্বীকৃতি পেয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয়তা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো পরিবর্তিত বাস্তবতায় উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও অ্যাক্রেডিটেশনের গুরুত্ব আরো বেড়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শক্তিশালী গুণগত মানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তবে অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি নয়, বরং সহায়তা করাই বিএসির লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ড. মো. সবুর খান বলেন, পরিবর্তনশীল শিল্প ও পেশাগত চাহিদা পূরণে নতুন ধরনের শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল কোর্স শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানযোগ্যতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ সময় তিনি শিল্পখাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের যুক্ত করে ‘প্রফেসর অব প্র্যাকটিস’ পদ চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ শুধু গুণগত মান নিশ্চয়তা সেলের দায়িত্ব নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অন্যান্য অংশীজনকে এ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে হবে।

আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, অ্যাক্রেডিটেশন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

আরও