কক্সবাজার সৈকত দখল করে ফের শতাধিক দোকান নির্মাণ

উচ্ছেদ অভিযানের তিন মাসও পার হয়নি। এরই মধ্যে আবারো দখল হয়ে যাচ্ছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের বালিয়াড়ি।

সৈকতের সুগন্ধা, কলাতলী ও আশপাশ এলাকায় বালিয়াড়ি ও ঝাউবাগান দখল করে নতুন করে চার শতাধিক দোকান ও অস্থায়ী রেস্তোরাঁ গড়ে তোলা হয়েছে। ঈদুল আজহার ছুটিকে কেন্দ্র করে রাতের আঁধারে এসব দোকান নির্মাণ করা হলেও তা ঠেকাতে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

সুগন্ধা সৈকত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গত মার্চে যেসব স্থান থেকে দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছিল, সেসব স্থানেই আবারো সারি সারি দোকান বসানো হয়েছে। সুগন্ধা জামে মসজিদসংলগ্ন বালিয়াড়িতে শতাধিক দোকান গড়ে উঠেছে। তবে অধিকাংশ দোকানেই কোনো সাইনবোর্ড নেই। দোকান মালিকদের পরিচয় জানতে চাইলে কর্মচারীরা এ বিষয়ে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। সৈকতের দোকানগুলোতে শামুক-ঝিনুকের তৈরি বিভিন্ন পণ্য, কাপড়, রোদচশমা, আচার, প্রসাধনী, চা-কফি, ভাজা মাছসহ নানা ধরনের খাবার বিক্রি করতে দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ দোকানই ভ্যানের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ভ্যানের নিচে চারটি চাকা লাগানো রয়েছে। দোকানিদের ভাষ্য, প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে দ্রুত স্থান পরিবর্তনের সুবিধার জন্য এমন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গত শনিবার রাতেও কলাতলী সৈকত ও সিগাল হোটেলসংলগ্ন ঝাউবাগানের ভেতরে নতুন করে বেশকিছু দোকান বসানো হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সুগন্ধা, কলাতলী ও লাবণী পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে অবৈধ সব স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিলাম। ওই উচ্ছেদ কার্যক্রম উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসারে পরিচালিত হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে উচ্ছেদ হওয়া কিছু ব্যক্তি উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেছেন। আদালত প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। রিটের জবাব দেয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

আরও