দেশের সর্ববৃহৎ রেলওয়ে কারখানা সৈয়দপুরের পিডব্লিউ (ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী, পথ) কার্যালয়ের গুদাম থেকে রেললাইনের পাত চুরি করে পাচারের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অফিস ইনচার্জ সুলতান মৃধাকে আটক করেছে রেলওয়ে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তদন্তে ঘটনার পেছনে সুলতান মৃধার জড়িত থাকার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গতকাল তাকে অফিস থেকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অপরাধ স্বীকার করেছেন।
অভিযুক্ত সুলতান মৃধার বিরুদ্ধে গ্যাস দিয়ে রেললাইন কেটে টুকরো টুকরো করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, গুদামে বা অফিস চত্বরে গ্যাস দিয়ে রেললাইন কাটার কোনো নিয়ম নেই। শুধু রেল ট্র্যাকে সংস্কার কাজের সময় অনুমতি সাপেক্ষে গ্যাস ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এ নিয়ম উপেক্ষা করে রাতভর গ্যাস সিলিন্ডার এনে রেললাইন কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় কয়েকজন বহিরাগত, অফিস স্টাফ ও ক্রেতার লোকজন এ কাজে সহযোগিতা করেছে। রাতভর লাইন কাটার পর ভোরে পিকআপ ভ্যানে করে রেললাইনের পাতগুলো সরানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদে এসব অভিযোগ স্বীকার করেছেন সুলতান মৃধা। তবে অভিযুক্ততার দাবি, বিক্রি করা পাতগুলো কোথায় নেয়া হয়েছে তা তিনি জানেন না। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের সম্পর্কে তথ্য দিতেও অপারগতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)। পার্বতীপুর রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) তহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পিডব্লিউর স্টোর থেকে গ্যাসের সিলিন্ডার ও লোহা কাটার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সুলতান মৃধা এখান থেকে বিপুল পরিমাণ রেললাইনের পাত গ্যাস দিয়ে কেটে পাচারের কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ও বিভাগীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। প্রাথমিকভাবে তাকে রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
পার্বতীপুর আরএনবির ইন্সপেক্টর হাসান শিহাবুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা করার পর রেলওয়ে পুলিশ পাচারকৃত মালামাল উদ্ধার ও পাচারের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করবে।’
সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মাহামুদ-উন-নবী বলেন, ‘মামলার কার্যক্রম চলমান। আসামিকে আটক করা হয়েছে। মামলার পর পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।’