মুগদা বিশ্বরোড এলাকার অতীশ দীপঙ্কর সড়ক থেকে মান্ডা ব্রিজ পর্যন্ত ৬৩৫ মিটার সড়কের সম্প্রসারণ, সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। উচ্ছেদ করে উদ্ধার করা জায়গায় আবারো স্থাপনা নির্মাণ করছেন বাড়ি মালিক ও দোকান মালিকরা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অঞ্চল-২-এর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এ সড়কে সরজমিন ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
গতকাল সরজমিন দেখা গেছে, মুগদা বিশ্বরোডের মুখে অবস্থিত ভবনটিতে ভাঙা অংশ মেরামত করে একটি দোকানে কনফেকশনারি চালু করা হয়েছে। বাকি দুটিও প্রস্তুত করা হয়েছে। আরেকটু সামনে এগিয়ে দেখা যায়, খালি জায়গায় রাস্তার ওপর দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। তার বিপরীত পাশের ভবনেও পুনরায় দোকান চালুর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বড় মসজিদ এলাকায় মসজিদের কিছু অংশ এখনো ভাঙা হয়নি, বরং উচ্ছেদ অংশে পুনরায় দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। বাশার টাওয়ার চার রাস্তার মোড়সংলগ্ন ১২৬/২/ক ঠিকানার আরব সেন্টার ভবনটিতে ভাঙা অংশ মেরামত করে দোকান চালু করা হয়েছে। পাশের ভবনেও একই দৃশ্য দেখে গেছে। মান্ডা ব্রিজসংলগ্ন ভবনটির সামনে ড্রেন তৈরির জন্য খুঁড়ে রাখা জায়গায় বালি ফেলে ভরাট করা হয়েছে। এভাবে যে যেখানে পারছে দখল করছে।
এছাড়া মুগদা বিশ্বরোডসংলগ্ন নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্টে পানি জমে রয়েছে। যেখানে জন্ম নিচ্ছে ডেঙ্গু মশা। ৬৩৫ মিটার সড়কের ম্যানহোল থেকে বর্জ্য তুলে বস্তা ভরে পুনরায় ম্যানহোলের পাশেই রাখা হচ্ছে। সেগুলো বৃষ্টির পানিতে আবারো ড্রেনে গিয়ে পড়ছে। ফুটপাতের দোকানদাররা তাদের বর্জ্যগুলো মান্ডা ব্রিজ অংশে মান্ডা খালে ফেলছেন। এতে খালে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে ও পানি অপসারণে বাধা তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. আমিনুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন স্থানে পরিদর্শন শুরু করেছি। বৈঠক করে বলে দিয়েছি কাজ শুরু করতে। আশা করি, এ এলাকায়ও কাজ শুরু হয়ে যাবে।’
প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কাইজার মোহাম্মদ ফারাবী ১০ সেপ্টেম্বর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশন তো ঠিকাদারকে সীমানা বুঝিয়ে দিয়েছে। এখন পুনরায় দখল হলে সেটি পুনরায় উদ্ধার করা হবে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা সেভাবে পাওয়া যাচ্ছে না।’
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে অঞ্চল-২-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমকে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
গত ২৬ আগস্ট অঞ্চল-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঠিকাদারকে আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। তাকে খুঁজছি। কাউন্সিলরও নেই। কাজ শুরু হয়ে যাবে। আমাকে এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমি মে মাসে দায়িত্ব নিয়েছি। এখানকার নির্বাহী প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন।’
ওয়ার্ক অর্ডার, বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কাজ কবে শেষ হবে নথি দেখে বলতে হবে। তবে বরাদ্দ অর্থের পুরোটাই আমাদের নিজস্ব অর্থায়ন।’ কেউ কেউ নতুন করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েছি। শিগগির সেগুলো উদ্ধার করা হবে।’ গতকাল মো. হারুন অর রশিদের মোবাইল নম্বরে কল দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।
একই অঞ্চলের উপসহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হোসেন গত ২৬ আগস্ট বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঠিকাদার জানিয়েছেন, তার নির্মাণসামগ্রী লুট হয়েছে। সেজন্য কাজ করতে পারছেন না। ৬৩৫ মিটারের এ সড়কের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।’
গত ২১ এপ্রিল সিটি করপোরেশন ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে রাস্তার দুই পাশের দোকান ও বাড়িগুলোর কিছু অংশ ভেঙে দেয়। অভিযানে পাঁচ শতাধিক দোকান ও বাড়ির কিছু অংশ গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।
তখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেছিলেন, ‘ড্যাপের নকশা অনুযায়ী ৫০ ফুট প্রশস্ত করার লক্ষ্যে সড়কের উভয় পাশের স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। সে আলোকে ভবন মালিকদের নোটিস দেয়া হয়েছে। আমরা স্থাপনাগুলো সরিয়ে নিতে তাদের অনুরোধও করেছি।’
রাস্তাটির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সড়কের প্রশস্ততা রয়েছে গড়ে ১৭ ফুট। সড়কের উভয় পাশে ৫ ফুট করে ১০ ফুট ফুটপাত ও দুই সারির (ডাবল লেন) ৪০ ফুট মূল সড়ক তৈরির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেয়া হয়।’