বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা পরিসংখ্যান কর্মকর্তার কার্যালয়ে তালা দিয়ে চেইনম্যান শামসুজ্জামানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। গতকাল দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবী রায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা খুলে শামসুজ্জামানকে উদ্ধার করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জনশুমারির জন্য উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের মাধ্যমে বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ৩০০ কর্মী নিয়োগের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক গত ৩ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাত্কার নেয়া হয়। গতকাল নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের দেয়ালে লাগিয়ে দেয়া হয়।
পরিসংখ্যান কর্মকর্তার কার্যালয়ের চেইনম্যান শামসুজ্জামান জানান, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডাকুয়া, সহসভাপতি আলকাস হোসেন, দেলোয়ার হোসেন ও সোহেলের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন ছাত্রলীগ কর্মী উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের সামনে গিয়ে কর্মকর্তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় তিনি (চেইনম্যান শামসুজ্জামান) অফিসের সামনে পৌঁছলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তার কাছ থেকে অফিসের চাবি ছিনিয়ে নিয়ে বন্ধ অফিসের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করেন। এক পর্যায়ে দেয়ালে সাঁটানো জনশুমারির নিয়োগপ্রাপ্তদের নামের তালিকা ছিঁড়ে ফেলে দেন। হামলাকারীরা রুম থেকে বের হয়ে চেইনম্যান শামসুজ্জামানকে রুমে ঢুকিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাধবী রায় জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে অবরুদ্ধ থাকা চেইনম্যান শামসুজ্জামানকে উদ্ধার করেন।
তিনি জানান, পরিসংখ্যান অফিসে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চেইনম্যান শামসুজ্জামান আরো বলেন, হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়ার কাছে জিজ্ঞাসা না করে কেন জনশুমারি গণনার জন্য লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে, এজন্য গালিগালাজ ও ভাংচুর করেন।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডাকুয়া হামলার সঙ্গে জড়িত নন দাবি করে বলেন, যতদূর শুনেছি তাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবী রায় ও পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মুহাম্মাদ গোলাম মোস্তফা অর্থের বিনিময়ে বিএনপি-জামায়াতের লোকজনকে নিয়োগ দিয়েছেন। স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে জামায়াতের লোকজন নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি মানতে না পেরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কয়েকজন আবেদনকারী হামলা চালিয়েছেন।
উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুল আলম চুন্নু পরিসংখ্যান অফিসে হামলা ও ভাংচুরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জনশুমারির জন্য কতজন লোক এবং কীভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
থানার ওসি মো. আবুল কালাম বলেন, পরিসংখ্যান অফিসে হামলা ও ভাংচুরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।