ঢাবির কলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন আবুল কালাম সরকার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কলা অনুষদের নতুন ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার। অনুষদের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে যোগদান করায় এ পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর প্রথম সংবিধির ১৭(২) ধারা অনুযায়ী ১৮ মার্চ থেকে অনধিক ৯০ দিনের জন্য অথবা নির্বাচিত ডিন দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত (যেটি আগে ঘটবে) অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকারকে ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার ১৯৯৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ও উর্দু বিভাগ থেকে ফারসি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) এবং ২০০০ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। উভয় পরীক্ষায় তিনি প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। স্নাতকে সম্মিলিতভাবে কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জনের জন্য তিনি এটর্নি আলমগীর স্বর্ণপদক লাভ করেন। এছাড়া কলা অনুষদে প্রথম হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বৃত্তি এবং স্নাতকোত্তরে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য ডক্টর আবেদা হাফিজ স্বর্ণপদক অর্জন করেন।

২০০৪ সালে তিনি একই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং বর্তমানে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১১ সালে 'বঙ্গানুবাদে ফারসি সাহিত্যচর্চা ১৯৭১-২০০৫' শীর্ষক গবেষণার জন্য তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে ইরান সরকারের বৃত্তিতে ইমাম খোমেনি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ফারসি ভাষায় উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

গবেষণা ও প্রকাশনায়ও রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য অবদান। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত তার গ্রন্থ ‘বাংলাদেশে ফারসি অনুবাদ সাহিত্য ১৯৭১-২০০৫’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ কর্তৃক শ্রেষ্ঠ গবেষণা গ্রন্থ হিসেবে নির্বাচিত হয়। এ কৃতিত্বের জন্য তিনি ২০১৮ সালে ‘ডিনস একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড ফর টিচার্স’ লাভ করেন। এছাড়া ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

দেশ-বিদেশে অনুষ্ঠিত ৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সেমিনারে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন তিনি। বিভিন্ন দেশি-বিদেশি জার্নালে তার প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ৫০-এর বেশি। ফারসি ভাষা শিক্ষাবিষয়ক তার গ্রন্থ ‘গামে আউয়াল’ ইরানের সাদি ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

এছাড়া ‘তাঙ্গেশেকার দার বাংলাদেশ’ গ্রন্থটি ইরানের আল্লামা তাবাতাবায়ি বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ সমঝোতা স্মারকের আওতায় প্রকাশিত হয়। বিদেশে প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ গবেষণা গ্রন্থ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় এ কাজের জন্য তিনি ২০২৫ সালে আবারও ‘ডিনস একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড ফর টিচার্স’ অর্জন করেন।

আরও