কুষ্টিয়ায় শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে মামলা

বাংলাদেশের একমাত্র জঙ্গি সংগঠন ছাত্রলীগ— মাহমুদুর রহমান

কুষ্টিয়ায় মামলার এজাহার জমা দিয়েছেন দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) কুষ্টিয়া মডেল থানায় তিনি মামলাটি করেন। জানা গেছে, মামলায় আসামি হয়েছেন ৩৭ জন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মামলার প্রধান আসামি।

এর আগে কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবে মতবিনিময় সভায় মাহমুদুর রহমান উল্লেখ করেন, তিনি মামলা করার জন্য কুষ্টিয়ায় এসেছেন। এ মামলার ১ নং আসামি হবেন শেখ হাসিনা। মামলার ভিত্তিতে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি দাবি জানাবেন বলে উল্লেখ করেন। তার আগে বেলা ১১টায় তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) টিএসসিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন।

এ সময় আমার দেশ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ থেকে মুক্তি পেতে হলে ছাত্রলীগ নামক সন্ত্রাসীদের থেকে আগে মুক্তি পেতে হবে। বাংলাদেশের একমাত্র জঙ্গি সংগঠন হলো ছাত্রলীগ। আগে ছাত্রলীগকে দিয়ে শুরু করি পরে আওয়ামী লীগকে ধরব। কিন্তু সরকার এখন পর্যন্ত তাদের শক্তি দেখাতে পারেনি। সরকার খুব স্লো। তারা আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অর্থবহ পদক্ষেপ নিতে পারেনি।

মাহমুদুর রহমান বলেন, এ কুষ্টিয়ায় আমাকে রক্তাক্ত করা হয়েছিল। সেদিনের সে ফ্যাসিবাদীরা আদালত চত্বরে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি তো মরিনি। আমাকে দেশছাড়া করেছে। তারপরও আমি মরিনি। আবার দেশে এসেছি। কিন্তু তারা কোথায়? তাদেরকে নিয়ে আসা হবে। বিচার করা হবে।

তিনি বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের কাঁধে চেপে বসা জালেমশাহীর পতন ঘটেছে। ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশে যে ফ্যাসিস্ট ও ইসলামবিরোধী সরকার ছিল সেটি সরাসরি দিল্লি থেকে পরিচালিত হয়েছে। দুটো লক্ষ্যে ছাত্র-জনতার আন্দোলন হয়েছিল। প্রথম লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটানো। দ্বিতীয়ত ভারতীয় আধিপত্যবাদকে নির্মূল করা। আমাদের প্রথম লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয়টা আমরা এখনো অর্জন করতে পারিনি। আমাদের সুযোগ এসেছে ভারতীয় আধিপত্যবাদকে চিরতরে উৎখাত করতে হবে। যে ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে আবরার শহীদ হয়েছে। আমাদের এ লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করার জন্য আমি সাত দিনের সময় দিয়েছিলাম। রোববার সে সময় শেষ হবে। রোববারের মধ্যে যদি ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা না হয় তাহলে সোমবার থেকে আমার দাবির সমর্থনে আপনারা এখানে আন্দোলন শুরু করবেন। নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। আমি ঢাকায় মাঠে থাকব। আপনারা এখানে মাঠে থাকবেন।

এ সময় জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও আমার দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও আমার দেশ পত্রিকার নগর সম্পাদক এম আব্দুল্লাহ, এবি পার্টির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মেজর আব্দুল ওয়াহাব মিনার এবং কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক উপস্থিত ছিলেন।

আরও