গতকাল সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি রফতানি বাজার সম্প্রসারণ এবং একটি খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত থেকে আসে। এ নির্ভরতা কমাতে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, ওষুধ শিল্প, আইসিটি ও সফটওয়্যার সেবা, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক পণ্যের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে একই ধরনের নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনার আলোকে এসব খাতের আংশিক রফতানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেয়া হয়েছে।’
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের ফলে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে, যা প্রায় ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রফতানিকে প্রভাবিত করতে পারে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ এরই মধ্যে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সিইপিএ চুক্তির আলোচনা চলছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরসিইপি সদস্যদেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, চীনসহ অন্যান্য সম্ভাব্য বাজারের সঙ্গে ইপিএ, সিইপিএ ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সরকারি দলের সংসদ সদস্য আলহাজ জসীম উদ্দিন আহমেদের (চট্টগ্রাম-১৪) সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বিদ্যমান প্রধান রফতানি খাতগুলোর পাশাপাশি চামড়া শিল্প একটি শক্তিশালী বিকল্প রফতানি খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।’
তিনি জানান, তিন বছর ধরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি আয় প্রায় ১ দশমিক ১০ থেকে ১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে স্থির রয়েছে। তবে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের পর উদ্ভূত বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যার কারণে এ খাতের প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়নি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের মূল লক্ষ্য ছিল আধুনিকায়ন এবং পরিবেশগত মান নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবায়নের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে চামড়া প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।’