পাইপলাইনে জেট ফুয়েল সরবরাহ

থমকে থাকা কাজে গতি ফেরাতে অনভিজ্ঞ ঠিকাদার বদলাতে চিঠি

নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে সহজেই উড়োজাহাজের জ্বালানি (জেট এ-১) ঢাকায় নিয়ে আসতে ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন নির্মাণ করছে সরকার। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে নৌবাহিনীর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নৌ-কল্যাণ ফাউন্ডেশন ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড (এনকেএফটিসিএল)। সহঠিকাদারি

নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে সহজেই উড়োজাহাজের জ্বালানি (জেট -) ঢাকায় নিয়ে আসতে ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন নির্মাণ করছে সরকার। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে নৌবাহিনীর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নৌ-কল্যাণ ফাউন্ডেশন ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড (এনকেএফটিসিএল) সহঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বারাকা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (বেল) ২০১৬ সালে জেট - পাইপলাইনটি স্থাপনের কাজ শুরু করে। তবে ২০২০ সালের মধ্যে প্রকল্পকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অগ্রগতি কেবল ৪৮ শতাংশ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনভিজ্ঞ হওয়ায় কাজটি এখন থমকে আছে। তাই গতি ফেরাতে ঠিকাদার বদলের অনুরোধ জানিয়ে জ্বালানি বিভাগে চিঠি দিয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ, জ্বালানি খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকের আলোচনায় বিষয়টি উঠে আসে। পরে বৈঠক থেকে জেট-- পাইপলাইন স্থাপনসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পাইপলাইন স্থাপন প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগিত জানতে চেয়ে সুপারিশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংসদীয় কমিটিতে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে জ্বালানি বিভাগ। সেখানে ওই প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা যায়, উড়োজাহাজের আমদানীকৃত জেট ফুয়েল চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে নদীপথে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপোতে নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে প্রতিদিন নয় হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ১২৫টি ট্যাংকলরির মাধ্যমে ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জ্বালানিটি আনা হয় কুর্মিটোলার এভিয়েশন ডিপোতে। জেট ফুয়েল যদিও সংবেদনশীল একটি দাহ্য পদার্থ, বারবার স্থান পরিবর্তনের ফলে এর মান খারাপ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই সঙ্গে দামি জ্বালানি যাত্রাপথে চুরি হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে শীতলক্ষ্যার তীর থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনের মাধ্যমে জেট ফুয়েল আনতে ২২৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকার প্রকল্পটি হাতে নেয় সরকার।

বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিপিসি আওতাধীন তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর অন্যতম পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (পিওসিএল) দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে উড়োজাহাজে জ্বালানি তেল সরবরাহকারী একমাত্র প্রতিষ্ঠানও এটি। এর মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই সবচেয়ে বেশি জেট - জ্বালানি তেল সরবরাহ করে। এজন্য বিমানবন্দরের পাশে হাজার ৭০০ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন কোম্পানির কুর্মিটোলা এভিয়েশন (কেএডি) অবস্থিত। ডিপো থেকে রিফুয়েলার হাইড্রেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে উড়োজাহাজের জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।

ট্যাংকলরির মাধ্যমে সড়কপথে গোদনাইল ডিপো থেকে কেএডি পর্যন্ত বর্তমানে বার্ষিক সরবরাহকৃত জেট --এর পরিমাণ প্রায় লাখ ৮৫ হাজার টন। পরিমাণ তেল পরিবহনে ভাড়া বাবদ বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। তাছাড়া বিভিন্ন কারণে বার্ষিক পরিবহন লস হয় প্রায় কোটি ৩৩ লাখ টাকার জ্বালানি। অর্থাৎ ট্যাংকলরিযোগে গোদনাইল ডিপো থেকে কেএডি পর্যন্ত জেট - পরিবহনে বার্ষিক মোট ব্যয়ের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৩ কোটি লাখ টাকা। এসব কারণে খাতে উত্তরোত্তর ব্যয় বাড়বে। তবে পাইপলাইনের মাধ্যমে তা সরবরাহ করা হলে পরিবহন ব্যয় পরিবহন লসের পরিমাণ কমবে।

প্রকল্পটির সর্বশেষ অগ্রগিত হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিপিসি পরিচালক (অপারেশন পরিকল্পনা) বরাবর গত মার্চ চিঠি দিয়ে একটি প্রস্তাব দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনকেএফটিসিএল। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং প্রকল্পটি সফলভাবে শেষ করতে বিকল্প উপায় হিসেবে তারা অনভিজ্ঞ সহঠিকাদার বারাকা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে (বেল) বাদ দিতে বলেছে। একই সঙ্গে তাদের স্থলে যোগ্য, আর্থিকভাবে সক্ষম, পেশাগতভাবে দক্ষ এবং আগ্রহী আরেকটি প্রতিষ্ঠান বিল্ডস্টোন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বিসিসিএল) নিয়োজিত করার বিষয়টি উল্লেখসহ সময় ব্যয়বৃদ্ধির প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। পরবর্তী সময়ে এনকেএফটিসিএলের প্রস্তাবিত বিষয়গুলো বিশদভাবে পর্যালোচনা যাচাইপূর্বক গঠিত কমিটির প্রতিবেদন প্রণয়ন করে এপ্রিল বিপিসির চেয়ারম্যান এবং জ্বালানি খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানো হয়। বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

সংসদীয় কমিটির বৈঠকের আলোচনায় বিপিসির চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ জানান, জেট - পাইপলাইন নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো অভিজ্ঞতা না থাকায় প্রকল্পটির মাত্র ৪৮ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। তবে তাদের দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে কিনা তা খতিয়ে দেখার বিষয়।

আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ওয়াসিকা আয়শা খান বণিক বার্তাকে বলেন, জেট - পাইপলাইন স্থাপনসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠক থেকে সুপারিশ করা হয়েছে।

বিষয়ে জানতে চাইলে পিওসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ঠিকাদার পরিবর্তনের বিষয়টি আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। মূল ঠিকাদার একই থাকছে, মূলত সহঠিকাদার পরিবর্তনের আবেদন এসেছে। ফলে প্রকল্পকাজে কোনো ঝামেলা হওয়ার কথা না।

আরও