নভেল করোনাভাইরাস ও রমজান—দুই মিলিয়ে বেশ চড়া ভোগ্যপণ্যের বাজার। এমন পরিস্থিতিতে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিলারদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্য বিক্রি করছে ট্রেড করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। কিন্তু ডিলার থাকলেও এসব পণ্য কিনতে পারছেন না লক্ষ্মীপুরের ভোক্তারা। তাদের অভিযোগ, অন্তত পাঁচ বছর ধরে ডিলাররা এ জেলায় টিসিবির পণ্য বিক্রি করেন না। ডিলাররা বলছেন, লক্ষ্মীপুরের মধ্যে ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্ট না থাকায় পণ্য সংগ্রহ করতে হয় কুমিল্লা বা চট্টগ্রাম থেকে। এতে খরচ বেশি পড়ায় তারা পণ্য বিক্রি করছেন না।
টিসিবির ডিলার ২০১৯-এর হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে লক্ষ্মীপুরে টিসিবির পণ্য বিক্রির জন্য ১২ জন ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়। এদের মধ্যে সদর উপজেলায় পাঁচজন, কমলনগরে দুজন, রামগঞ্জে তিনজন ও রায়পুরে দুজন ডিলার রয়েছেন। এসব ডিলারের মধ্যে রামগঞ্জ উপজেলার পানপাড়া বাজার এলাকার মেসার্স রিপাত স্টোর ও মেসার্স পাটোয়ারী স্টোর নামে দুই ডিলারের সঙ্গে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে টিসিবির পণ্য সরবরাহ ও বিক্রি না করার দায়ে ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর সদরের চন্দ্রগঞ্জের মেসার্স হান্নান অ্যান্ড ব্রাদার্স, রায়পুরের মেসার্স ফারুক স্টোর ও মেসার্স দিদার স্টোর নামে তিন ডিলারের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়। এছাড়া সাতজন ডিলার চুক্তি নবায়ন না করায় মেয়াদোত্তীর্ণের তালিকায় রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, অন্তত পাঁচ বছর ধরে লক্ষ্মীপুরের কোনো ডিলারই টিসিবির পণ্য বিক্রি করছেন না। অথচ চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও তাদের ডিলারশিপ বাতিল করা হচ্ছে না। এতে জেলার বাসিন্দারা টিসিবির পণ্য কিনতে পারছে না। বাধ্য হয়েই নিম্ন আয়ের মানুষদের উচ্চমূল্যে নিত্যপণ্যসামগ্রী কিনতে হচ্ছে। এ সমস্যার সমাধানে মেয়াদোত্তীর্ণ ও পণ্য বিক্রিতে অনাগ্রহীদের ডিলারশিপ বাতিল করে নতুন ডিলার নিয়োগ দেয়া উচিত।
টিসিবির কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান শহিদুল ইসলাম জানান, ডিলার নিয়োগ ও বাতিল প্রক্রিয়া টিসিবির ঢাকা প্রধান কার্যালয় থেকে হয়ে থাকে। কুমিল্লা কার্যালয় থেকে শুধু ডিলারদের পণ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হয়। লক্ষ্মীপুরের কোনো ডিলারই পণ্য নিতে আসেন না।
ডিলাররা জানান, লক্ষ্মীপুরে টিসিবির কোনো ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার নেই। এজন্য চট্টগ্রাম বা কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে পণ্য আনতে হয়। এতে পণ্য পরিবহন ব্যয় বেশি হয়। অথচ টিসিবির পণ্য বিক্রি করে ২-১ টাকার বেশি লাভ করা যায় না। ফলে লাভের চেয়ে লোকসানই বেশি হয়। লক্ষ্মীপুরে ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার থাকলে পরিবহন ব্যয় কম হতো। তাছাড়া টিসিবির পণ্যের মানও ভালো নয়।
সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজার এলাকার ডিলার মেসার্স মতিন অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক মতিন বলেন, টিসিবির পণ্য আনতে গেলে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বাড়তি টাকাও দিতে হয়। তাই আর বিক্রি করছি না।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের (নেজারত শাখা) সহকারী কমিশনার মো. বনি আমিন বলেন, লক্ষ্মীপুরে টিসিবির ডিলারদের চুক্তির মেয়াদ নেই। তাদের কারণে কয়েক বছর ধরে এ জেলার মানুষ পণ্য কিনতে পারছে না। অনাগ্রহী ও মেয়াদোত্তীর্ণ ডিলারদের ডিলারশিপ বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে।
তিনি আরো বলেন, নতুন ডিলার নিয়োগের জন্য দুটি প্রতিষ্ঠানের আবেদনপত্র টিসিবির কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নতুন ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে জেলায় টিসিবির পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করা হবে।