পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না নিয়ে
একের পর লাল মাটির পাহাড় কাটছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) কর্তৃপক্ষ।
২৭ জানুয়ারি প্রথম সমাবর্তন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্যান্ডেল তৈরির জন্য
আবারো পাহাড় কাটা হচ্ছে। এতে পরিবেশ বিপন্নের পাশাপাশি সৌন্দর্য হারাচ্ছে
বিশ্ববিদ্যালয়টি। ছাড়পত্র না নিয়ে পাহাড় কাটায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে গত রোববার
কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় পরিবেশ অধিদপ্তরের কুমিল্লা কার্যালয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের
কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের উত্তর দিকের পাহাড় কেটে মাটি ট্রাক্টরে করে অন্যত্র সরিয়ে
নেয়া হয়েছে। পাহাড় কাটা মাটি দিয়ে কেন্দ্রীয় মাঠের বিভিন্ন স্থান সমান করা হয়েছে।
এর আগেও পাহাড়টি কাটা হয়েছিল। বর্তমানে পাহাড়ের নিচের অংশ বেশি কাটায় আগামী বর্ষা
মৌসুমে পাহাড়টি ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৭
জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে কেন্দ্রীয় মাঠে। সমাবর্তন
সামনে রেখে প্যান্ডেল প্রস্তুতের অংশ হিসেবে মাঠের উত্তর পাশের এ পাহাড় কাটা
হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, লালমাই
পাহাড়ের পাদদেশ ঘিরে ক্যাম্পাসটির প্রধান সৌন্দর্য হচ্ছে লাল মাটির পাহাড়। কিন্তু
প্রশাসনের একের পর এক পাহাড়-টিলা কাটায় হারিয়ে যাচ্ছে এ সৌন্দর্য।
এর আগেও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি না
নিয়ে ছোট-বড় টিলা ও পাহাড় কাটে কর্তৃপক্ষ। গত ২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের পশ্চিম পাশের টিলার বড় একটি অংশ কেটে ফেলা হয়।
ওই মাটি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে নির্মাণাধীন সড়কদ্বীপ ও
ডরমিটরির নিচু স্থান ভরাট করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাহাড়
কাটার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে কোনো ধরনের ছাড়পত্র নেয়নি বলে অধিদপ্তর সূত্রে
জানা যায়।
পাহাড় কর্তনের বিষয়ে পরিবেশ
অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর
কুমিল্লা কার্যালয়ের পরিচালক শওকত আরা কলি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কুমিল্লা
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পাহাড় কাটার বিষয়ে কোনো অনুমতি নেয়নি।
এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আমরা কেন এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে না মর্মে
একটি কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছিলাম। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার শুনানি
অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছে।
শুনানির বিষয় উল্লেখ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দিয়েছি। নির্দেশনা
পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত
দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আবু তাহের বণিক বার্তাকে বলেন,
পরিবেশ অধিদপ্তরের শুনানিতে আমরা অংশগ্রহণ
করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়-টিলা সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ
ঘটনায় জড়িত ঠিকাদারের মূল কাজের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের ১৫ শতাংশ টাকা জরিমানার
সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।