থানচিতে কাঠবোঝাই ট্রাকের ভারে সেতু ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

অবাধে চলছে বন নিধন কাঠ পাচার

বান্দরবানের থানচি উপজেলায় কাঠবোঝাই ট্রাকের ভারে একটি সেতু ভেঙে পড়ে চারটি পাড়ার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে বাসিন্দাদের চলাচলে বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

গত ১৩ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে থানচি সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের থানচি-জিনিঅংপাড়া সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রায় ২০ বছর আগে সেতুটি নির্মাণ করেছিল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাঠবোঝাই অতিরিক্ত ওজনের ট্রাকটি সেতুতে ওঠার পরপরই ভেঙে খালে পড়ে যায়। ঘটনার একদিন পর অন্য একটি ট্রাকের মাধ্যমে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি তুলে নেয়া হয়। কাঠের বোঝা খালি করে গাড়ি দুটি সরিয়ে নেয়া হয় থানচি সদরের দিকে।

সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে জিনিঅংপাড়া, প্রেচিং ম্রোপাড়া, নিংলক ম্রোপাড়া ও মেকং ম্রোপাড়ার অন্তত দেড়শ পরিবারের মানুষের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে ওই এলাকার শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় কৃষকেরা উৎপাদিত ফসল সদরে নিয়ে বিক্রি করতে পারছেন না। সেই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বহন ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিয়েও বড় সংকটে পড়েছেন বাসিন্দারা।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, অবৈধভাবে বনের গাছ কেটে ওই কাঠগুলো পরিবহন করা হচ্ছিল। আইন অনুযায়ী সূর্যাস্তের আগে কাঠ পরিবহনের নিয়ম থাকলেও দুর্ঘটনাটি ঘটে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে। নির্ধারিত জোত পারমিটের কাগজ দেখালেও মূল কাঠ কাটা হচ্ছিল অনুমতিহীন স্থান থেকে।

এদিকে বন বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বশিহা ত্রিপুরা নামের এক ব্যক্তির নামে আড়াই হাজার ঘনফুট কাঠ কাটার জোত পারমিট দেয়া হয়। তবে বাস্তবে এ পারমিট ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বান্দরবানের শহিদুল হক।

স্থানীয়দের দাবি, জিনিঅংপাড়ায় বশিহা ত্রিপুরা নামে কেউ থাকেন না। আয়কর ফাঁকি দেয়া ও অবৈধ কাঠ বৈধ করতেই এ কৌশল নেয়া হয়েছে।

যে বাগান থেকে কাঠ নেয়া হচ্ছিল তার মালিক তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মংথোয়াইম্যা রনি। বাগান দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন চহাই মারমা এবং কাঠ পরিমাপের দায়িত্বে ছিলেন মো. আলী আকবর। এ বাগানের কোনো বৈধ জোত পারমিট ছিল না।

মিবাক্ষা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রউফুল ইসলাম খান জানান, বশিহা ত্রিপুরার নামেই পারমিট ইস্যু করা হয়েছিল এবং তা শহিদুল হক নামের এক ব্যবসায়ীকে হস্তান্তরিত হয়। রেঞ্জে তিনি ছাড়া কোনো জনবল ছিল না বলেও তিনি জানান।

বান্দরবান পাল্পউড প্লান্টেশন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ জানান, জনবল সংকটের বিষয়টি সত্য। ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভেঙে যাওয়া সেতুর বিষয়ে কাঠ ব্যবসায়ীকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে তিনি মত দেন।

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল জানান, কাঠগুলো বৈধ ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। অনিয়ম পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। আপাতত হেঁটে পারাপারের জন্য দ্রুত একটি অস্থায়ী সাঁকো তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং স্থায়ী সেতুর জন্য নতুন করে আবেদন করা হয়েছে।

আরও