মোট ১৩ আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। গতকাল সন্ধ্যায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দল, জোট ও স্বতন্ত্র সদস্যদের আসন সংখ্যার অনুপাতে সংরক্ষিত আসনের বণ্টন নির্ধারিত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ১১ দলীয় জোট আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে মোট ১৩টি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে।’
জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের মনোনয়ন প্রক্রিয়া অন্যান্য দলের তুলনায় ভিন্ন। এখানে কোনো প্রার্থী আবেদন করেন না; বরং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তবে এ ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ের মতামত এবং সংশ্লিষ্ট মহিলা বিভাগের পরামর্শ বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।
জামায়াতের মিডিয়া বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, ১৩টি আসনের মধ্যে জামায়াত থেকে আটজন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে যাচ্ছেন দুজন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন এবং জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মাকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম, আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি ও আইনজীবী সাবিকুন নাহার মুন্নি, প্রচার ও সাহিত্য সংস্কৃতি বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলু, সিলেট মহানগরীর সাবেক সেক্রেটারি অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান, বগুড়া জেলার অঞ্চল পরিচালিকা ও সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদা সামাদ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সেক্রেটারি শামছুন্নাহার বেগম, কেন্দ্রীয় কমিটির নারী অধিকার আন্দোলনের সদস্য ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মারদিয়া মমতাজ। এছাড়া মনোনীত হয়েছেন শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা রোকেয়া বেগম। অন্যদিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু, জাগপা সভাপতি তাসমিয়া প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেত্রী মাহবুবা হাকিম মনোনয়ন পেয়েছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৭৭টি আসনে জয়ী হয় ১১ দলীয় ঐক্য। সেই হিসাবে তারা ১৩টি নারী আসন পাচ্ছে। ৫০ নারী আসনের ৩৬টি পাচ্ছে বিএনপি।
এর আগে ১২ জনের তালিকা জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের কাছে পাঠায় দলটির মহিলা বিভাগ। পরে দলের শীর্ষ পর্যায়ে যাচাই শেষে ১১ জনের নাম চূড়ান্ত করা হয়। এনসিপির একটি আসন পাওয়ার কথা থাকলেও জামায়াত আমির উপহার হিসেবে এনসিপির মাহমুদা মিতু, জাগপার তাসমিয়া প্রধান ও খেলাফত মজলিসের মাহবুবা হাকিমকে আসন ছেড়ে দিচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন হবে।